রেলপথের প্রতিটি স্লিপারে সাজানো রয়েছে ‘মৃত্যুফাঁদ’

স্টাফ রিপোর্টারস্টাফ রিপোর্টার
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:47 PM, 26 June 2019

সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু নজরে আসছে না কর্তৃপক্ষের।

আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত রেললাইন ডুয়েলগেজ নির্মাণ করা হবে চীনের ঋণে।নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে, তাই শত বছরের পুরনো রেলপথের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ থেমে রয়েছে। সেতুগুলো সংস্কার করা হয়নি। এরই মধ্যে গত রোববারের রেল দুর্ঘটনায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এই রেললাইন।

১৭৬ কিলোমিটারের ঢাকা-সিলেট রেলপথটি ব্রিটিশ আমলের তৈরি। ঢাকা থেকে ভৈরব পর্যন্ত ডাবল লাইন স্থাপন করা হলেও ভৈরব থেকে সিলেট পর্যন্ত রাস্তাটি রয়েছে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। শতবছরের পুরনো এই পথটিতে মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হলেও অধিকাংশ স্থানের অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক। আর সেতুগুলোর কথাতো বর্ণনা করার মতোই না। নড়বড়ে এই রুটের প্রতিটি সেতুতে ট্রেন উঠলেই ঠিকমতো কাঁপতে শুরু করে।

লক্কড়-ঝক্কড় রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে স্লিপারে নেই নাট-বল্টু। এমনকি বাঁশ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে রেলসেতু।

সরজমিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল স্টেশনের ১ কিলোমিটার দূরে আউট সিগনাল এলাকায় খালের উপর একটি ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, ওই ব্রিজের ৮টি স্লিপারে যেখানে ৬৪টি নাট থাকার কথা সেখানে এই ব্রিজে নাট আছে ৩৫টা। এর পাশেই দুটি পাতের সংযোগস্থলে একটিতে নেই নাট-বল্টু। অন্য দুটি যেন খুলে না যায় তাই আটকানো আছে দড়ি দিয়ে।

রেলের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, সড়কপথে ঢাকা-সিলেট যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে ট্রেনে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি পৃথক কমিটি করেছে রেল মন্ত্রণালয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে কমিটি। কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, তদন্তের পরই বলা যাবে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলপথ ও সেতু জরাজীর্ণ ছিল কি-না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

জিএসনিউজ/এমএইচএম/এএওয়াই

 

আপনার মতামত লিখুন :