নোয়াখালী সুবর্ণচরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে আহত

স্টাফ রিপোর্টারস্টাফ রিপোর্টার
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৫২ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২০

নোয়াখালী সুবর্ণচরে বয়স্ক ভাতার কার্ড চাওয়ায় এক বৃদ্ধকে পিটালেন ইউপি সদস্য, ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা কুপিয়ে আহত করলেন তার সাঙ্গপাঙ্গরা, এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। আহত যুবলীগ নেতা মজনু বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনাটি ঘটে সুবর্ণচর উপজেলা ১ নং চরজব্বার ইউনিয়নের কাঞ্চন বাজারে।

ভুক্তভোগিরা জানান, পশ্চিম চরজব্বার গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ মাহফুজুর রহমান(৬৫) চরজব্বার ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাহারের কাছে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড চান এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধকে মারধর করে, বৃদ্ধার জবানবন্দী ভিডিও ধারণকরে অজ্ঞাত কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে পোস্ট করলে তা মুহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সবার নজরে আসে। ভিডিও দেখে মেম্বারের বিরুদ্ধে উক্ত ঘটনার প্রতিবাদ করেন চরজব্বার ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মজনুু হোসেন(২৯) এই নিয়ে মজনুর মোবাইলে একাধিকবার হুমকি প্রধান করে চরজব্বার ইউনিয়ন আওয়ামি লীগের সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক ফজলুর ছোট ভাই ইসমাইল। ৩১ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৯ টায় মজনু হোসেন কাঞ্চন বাজার থেকে নিজ বাড়তে যাওয়ার পথে ইসমাইলের নেত্রীত্বে তার গতিরোধ করে চর রশিদ গ্রামের জয়নাল আবেদিনের পুত্র আইয়ুব আলী ওরফে আইয়ুব হাজারী, ফারুক মাঝির ছেলে সোহেল (২৩), পশ্চিম চরজব্বার গ্রামের মজিবুল হক মাঝির পুত্র (আওয়ামিলীগ নেতা ফজলুর ছোট ভাই) ইসমাইল(২৬), বাহার উদ্দিন মেম্বারের ছেলে আব্দুল করিম ভেন্ডা, আব্দুল ওহাবের পুত্র সোহেল (২৪), আব্দুল হালিমের পুত্র আমির হোসেন(২৫) আবু তাহেরের পুত্র হেলাল (৩৫)সহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনের একদল বখাটে। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র দিয়ে যুবলীগ নেতা মজনুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে তার শৌরচিৎকারে এলাকাবাসি দৌড়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় এবং স্থানীয়রা মঞ্জুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চরজব্বার থানা পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসি জানান, ফজলুল হক ফজলু ওরফে ফজলু মুহুরি ইউনিয়ন আওয়ামি লীগের সাধারণ সম্পাদ হওয়ার পর থেকে তার ভাই ইসমাইল এলাকায় ত্রাসের রাজ্য কায়েম করে আসছে, নানা অসামাজিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাহার মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি তবে এই ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”। ঘটার বিষয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগী মজনুর পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন :