ফেনীতে ১৫ কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা উধাও

জেলা প্রতিনিধিজেলা প্রতিনিধি, ফেনী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৩৬ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৯

ফেনীতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ছেন ঢাকা ব্যাংক’র গোলাম সাঈদ রাশেব (৩৫) নামে এক কর্মকর্তা। টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার ব্যাংকে ভিড় করে গ্রহকরা। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা লাখ লাখ টাকা খুইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহক ও ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা ব্যাংকের ফেনী শাখা চালু হলে রাজধানী ঢাকা পড়ালেখা শেষ করা ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বড় বাড়ির মৃত আজিজুল হক ভূঁইয়ার ছেলে গোলাম সাঈদ রাশেব। এ শাখায় দুই মেয়াদে প্রায় ৯ বছর চাকরি করেন তিনি। পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ফেনী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার (ক্রেডিট) পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় চাকুরির সুবাদে এখানকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আস্থাভাজনে পরিণত হন তিনি। গ্রাহকরা নির্দিধায় তার কাছে চেক, নগদ অর্থ ও ঋণের কিস্তর টাকা দিয়ে যেতেন।

বিস্বস্থতার সুযোগ নিয়ে চতুর ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে ব্যাংকের অন্য নিজে ও অফিসারদের দিয়ে ব্লাংক চেক সংগ্রহ করে। তার গতিবিধি সন্দেহজন হলে ১২ মার্চ মঙ্গলবার ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার উর্ধ্বতনদের লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করেন। পরদিন যথারিতি অফিসে এসে সকাল সাড়ে দশটার পর বাইরে গিয়ে উধাও হয়ে যান ওই কর্মকর্তা। চেক উত্তোলনের ম্যাসেজ পেয়ে বৃহস্পতিবার দু’ একজন গ্রাহক ব্যাংকে অভিযোগ করলে বিষটি স্পষ্ট হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর গ্রামের মাহবুবুল হক রিপনের একাউন্ট থেকে হাওয়া হয়ে যায় ৩৪ লাখ টাকা। তিনি অভিযোগ করেন, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের অধিনে ব্যাংকের এ শাখায় ৫ কোটি টাকার ঋণ চলমান রয়েছে। ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে দুটি ব্লাংক চেক নেন চতুর গোলাম সাঈদ রাশেব। পরে একাউন্ট চেক করে দেখা যায় এ দুটো চেক ব্যবহার করে টাকাগুলো উত্তোলন করেন।

তার ছোট ভাই ফজলুল হক পলাশের মুনতাসির এন্টারপ্রাইজ নামীয় একাউন্ট থেকে ৪২ লাখ টাকা একই কায়দায় তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফেনী শহরের ভিতরের বাজারের কাপড়ের ব্যবসায়ী অজয় কুমার বণিক’র লোক সসমন্বয় থেকে ৭০ লাখ টাকা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাচ্চুটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন মজুমদারের ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন।

ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহক মাহবুবুল হক রিপন বলেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব। তিনিসহ ব্যাংকের উপস্থিত অন্য গ্রাহকরা ঠিক কতজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন তথ্য দিতে না পারলেও ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত টাকা খোয়া গেছে মর্মে প্রায় ১৫জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে হিসেবে ব্যাংকিং লেনদের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে গোলাম সাঈদ রাশেবের সাথে অনেক গ্রাহকের ব্যক্তিগত লেনদেন রয়েছে বলে অনেক গ্রহক মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্যাংকের ফেনী শাখার ম্যানেজার আখতার হোসেইন সরকার জানান, ঠিক কতটি একাউন্ট থেকে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে এটি বলা মুশকিল। গ্রাহকরা মৌখিক ও লিখিতভাবে জানাচ্ছেন। ঢাকা থেকে আইটি এক্সপার্ট আসছেন। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি চিহ্নিত করা যাবে। প্রধান কার্যালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক কথা বলে বিষয়টি দ্রুত নিস্পত্তি করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :