চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথ রুদ্ধ করে দিলো বিরোধীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৪৯ এএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ধাক্কার রেশ কাটার আগেই দ্বিতীয় ধাক্কায় একেবারে কোনঠাসা হয়ে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। পার্লামেন্টে ভোটাভুটির ফলাফলে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের যে স্বপ্ন তিনি দেখছিলেন, তা ডিমের খোসার মতো গুড়িয়ে গেলো। ব্রেক্সিট কী ফরম্যাটে হবে, তা নির্ধারণের কোনো ক্ষমতা আর সরকারের থাকলো না।

বিরোধী দলের এমপিরা ঠিক করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসা না আসার গতিপথ। আজ বিতর্ক হবে ব্রেক্সিটের আগাগোড়া নিয়ে, ৩২৮ ভোট পেয়েছে বিরোধী পক্ষ, আর বরিসের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩০১টি। বিবিসি, সিএনএন

এদিকে মঙ্গলবার সরকারি দলের একজন এমপি-র দলত্যাগের ফলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। ফিলিপ লি নামের ওই এমপি বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

ছুটি থেকে মঙ্গলবার ফিরেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। ফিরেই বরিস জনসনের ব্রেক্সিট নীতি এবং পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এমপিরা।  চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে একটি বিলে আনছে বিরোধীরা, এই বিল পাস হলে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পেছানো দাবি জানাতে পারবে তারা। তবে এই বিলে টোরি এমপিরা সমর্থন করলে ১৪ অক্টোবর আগাম সাধারণ নির্বাচনের হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন বরিস। তা সত্ত্বেও বিলটি উত্থাপনের জন্য কর্তৃত্ব পেয়ে গেলো বিরোধীরা।

এর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরে জনসন দাবি করেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট কোনোভাবেই দমবন্ধকর পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটাবে না। তিনি বলেন যদি পার্লামেন্ট তার পথে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় তবে তিনি হয়তো ব্রেক্সিটের জন্য অতিরিক্ত সময় চাইতেও পারেন।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মনে করেন, বরিস জনসন জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন। নিজ দলের সদস্যের ভোটে নির্বাচিত বরিস গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ নন। তিনি রাজনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুসরণ করছেন। তার কারণে জনগণ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চাকুরিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই

আপনার মতামত লিখুন :