কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরো চেয়ারম্যান, জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিলেন মোদী

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:১৬ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিক্রম ল্যান্ডারের সঙ্গে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর অনেক চেষ্টা করেও তা ফেরত আসেনি আর। ফলে এক সময়ে বেঙ্গালুরুতে ইসরোর সাফল্য দেখতে মধ্যরাতে ঠায় বসে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতেই হয় ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবনকে। তাঁর কাছে সব শোনার পর প্রধানমন্ত্রী ইসরো ছাড়ার তোড়জোড় করেন। আর তখনই আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন কে শিবন। এতদিনের পরিশ্রম। এত স্বপ্ন। সারা ভারতের স্বপ্ন। চাঁদে নামার আগের মুহুর্তে সব শেষে এটা বোধহয় মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। না পারারই কথা। অনেক ভারতবাসী যদি ভেঙে পড়ে থাকেন তাহলে তিনি প্রকল্পের মাথা হয়ে কীভাবে নিজেকে ধরে রাখবেন!

ভারতকে একের পর এক গর্বের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে যে ইসরো, ভারতের সেই স্বপ্নের কারখানা জুড়ে রাত থেকে শুধুই হতাশা। শেষ মুহূর্তে আর যোগাযোগ করা গেল না ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে। চাঁদের মাটি ছুঁল কিনা জানা নেই। হয়ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ নয়, তবুও পরিকল্পনা মত সবকিছু না হওয়ায় বিজ্ঞানীদের চোখে-মুখে নিরাশার ছবি। উৎসাহ দিতে সকালেই ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তাঁর সামনেই কার্যত ভেঙে পড়লেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিবান।

শনিবার সকালেই ইসরো হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে ইসরোর বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তিনি। বলেন, ব্যর্থতা বলে কিছু হয় না। নতুন ভোর আসবেই। বারবার মনে করিয়ে দেন দেশ তাঁদের সঙ্গে আছে। দেশবাসী যে উদ্বেগ নিয়েছে সারারাত ধরে তা আগামিদিনে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জেদ আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার রাত ১.৪০-এর পর চাঁদের মাটি স্পর্শ করার কথা ছিল ল্যান্ডার বিক্রমের। রাতভর দেশের মানুষ সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় বসে ছিল। কিন্তু, মাত্র ২.১ কিলোমিটার দূরে থাকতেই বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর। কন্ট্রোল রুমে নেমে আসে নৈশব্দ। সেই স্তব্ধতা ভেঙে কে সিবানই ঘোষণা করেন, সব কিছু পূর্ব পরিকল্পনা মত হলেও বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। সমস্ত দেশবাসী তখন তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে।

জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই

আপনার মতামত লিখুন :