ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:১৪ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৯

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একইসঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়। বুধবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন মামলাটির চার্জ গঠন শেষে বিচার শুরুর এই আদেশ দেন এবং আগামী ৩১ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ওই দিন বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে সকালে মোয়াজ্জেমকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়।

গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন এই ট্রাইব্যুনাল। আগের দিন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেমের অপরাধসংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে আগুনে পোড়ানোর আগে থানায় গেলে তার বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ কারণে গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এই মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলাটি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন, রাফিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর তাকে থানায় জেরা করার দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা প্রচার করেন। ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে ওসি মোয়াজ্জেম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাফি মারা যান।

জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই

আপনার মতামত লিখুন :