নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার সেরা ১০টি টিপস

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৩৯ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার সেরা ১০টি টিপস
ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ, সংসার, প্রতিদিনের কাজ-কর্ম, স্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২ ঘন্টার মতো সময় ব্যয় করি। বেশির ভাগ সময় এসব চিন্তার ফলাফল হতাশাজনক হয় এবং আমরা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না।
কিভাবে এসব নেতিবাচক বাদ দিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়, তার দশটি টিপস:
১. ইতিবাচক চিন্তা করুন
নিজের সমস্যাগুলোর সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রথমেই আপনার মন থেকে নেতিবাচক চিন্তাগুলো দূরে সরিয়ে দিতে হবে।
ইতিবাচক বাক্য যেমন- “যত সমস্যাই আসুক, আমি ভয় পাই না। এই কাজটি আমি করেই ছাড়ব” বারবার বলতে থাকুন। সমস্যা আসলে ভেঙ্গে পড়বেন না। সমস্যাকে কঠিন ভেবে আগে থেকেই হেরে না বসে সেটিকে ডিল করার প্রস্তুতি নিন।
“সমস্যা সমাধানের মাধ্যমেই আমি নতুন জ্ঞানার্জন করব, এর থেকে উত্তরণের রাস্তা আমি নিজেই খুঁজে বের করব এবং এটিকে মোকাবেলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনবো”- এই কথাগুলো যখন মনে মনে আওড়াতে থাকবেন, তখন আপনার মন থেকে হতাশা এবং সন্দেহ দূর হয়ে যাবে।
আপনার মনে যে নেতিবাচক চিন্তা ধারা ছিল সেটিও চলে যাবে। যখনই আপনি বিষয়টা ইতিবাচকভাবে চিন্তা করবেন, তখন আপনার সুপ্ত শক্তিটা জেগে উঠবে।
২. গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিন
যখন খুব হতাশার জড়িয়ে ধরবে, তখন গভীর করে শ্বাস নিন এবং প্রশ্বাসের সাথে হাতাশাগুলো বের করে দিন।
শরীর অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস, বিশেষ করে লম্বা শ্বাস নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৩০ সেকেন্ডের মত সময় নিয়ে লম্বা শ্বাস নিন, যতক্ষণ সম্ভব বাতাস রাখুন। তারপর আস্তে আস্তে প্রশ্বাস নিন। এটি শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করবে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এর সাথে আপনার টেনশন দূর করে দিবে।
৩. সবুজ চা পান করুন
জাপানিজ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল হেলথ এর গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ চা এর মাঝে যে উপকরণগুলি থাকে সেগুলো হতাশা কাটাতে খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এজন্য যখনই খুব খারাপ লাগা কাজ করবে বা হতাশায চেপে ধরবে, তখন সবুজ চা পান করুন।
৪. শান্ত থাকার চেষ্টা করুন
নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে হতাশার মাঝেও মনকে শান্ত রাখার কৌশল রপ্ত করুন।
সুবিধামত একটি জায়গা বাছাই করে আরাম করে বসুন। এবার চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিন। ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন, এরপর ছেড়ে দিন। এই প্রক্রিয়াটা কয়েক বার রিপিট করুন। শ্বাস-প্রশ্বাসে একটা স্বাভাবিক ছন্দের অনুভূতি বুঝার আগ পর্যন্ত এটি করতে থাকুন।
যখন শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে, তখন চিন্তা করুন আপনার কোনো দুঃখ বা হতাশা নেই। ভাবুন, আপনি কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আনন্দের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। যত গভীরভাবে আপনি বিষয়টি চিন্তা করবেন, বাস্তবে ঠিক ততটাই রিলাক্স মুডে থাকতে পারবেন।
৫. চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন
চাপের মুখে হারিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বুক ফুলিয়ে চাপ সামলানোর চেষ্টা করুন। আপনার শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যান, কখনোই হাল ছাড়বেন না। চাপকে হুমকি হিসেবে না নিয়ে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন। ভিন্ন ভিন্ন ফর্মুলা প্রয়োগ করে দেখুন। চাপকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে সেটি উপভোগের চেষ্টা করুন।
৬. আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন
আবেগে গা ভাসিয়ে দিবেন না। খুব খুশির সময় বা রাগান্বিত অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। পেশাদারিত্বের খাতিরে ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো দূরে সরিয়ে রাখুন। আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া একটা সিদ্ধান্ত আপনার মূল্যবান সময়কে যেভাবে রক্ষা করতে পারে, ঠিক একইভাবে অনেক অর্জন ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
৭. হাসিখুশি থাকুন
যতই চাপের মধ্যে থাকেন না কেন বা যত বড় সমস্যাই হোক না কেন, দিনে অন্তত একবার হলেও উচ্চস্বরে হাসার চেষ্টা করুন। হাসির ফলে পেশীগুলো টেনশন থেকে মুক্তি পায়। সহকর্মীদের সাথে খোশগল্পে যোগ দিন, হালকা রসবোধের চর্চা করুন।
৮. মাঝেমধ্যে ছুটি নিন
সপ্তাহে অন্তত একটি দিন নিজের মতো করে কাটান। এই দিনটাতে কোন কাজ করবেন না, নিজের চাহিদাগুলোর দিকে নজর দিন। পরিবারের সবার সাথে সময় কাটান। শখের কাজগুলো করুন। বই পড়ুন, গান শুনুন, মুভি দেখুন। পরিবাসের সদস্য বা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বাইরে বেড়াতে যান, প্রিয় খাবার খান।
৯. কর্মস্থলের পরিবেশকে মনের মতো করে সাজান
যে জিনিসগুলো আপনি খুব বেশি পছন্দ করেন, যেগুলো আপনার ব্যক্তিগত জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেগুলো আপনার কর্মস্থলে রাখতে পারেন।
যে জিনিসটি দেখলে আপনার মাঝে উৎসাহ ও আনন্দ আসে, তার  একটি আইটেম টেবিলের উপর রাখুন। এটি দেখার পরে আপনার মনে একটা ভালোলাগার অনুভূতি আসবে। কিছু সময়ের জন্য হলেও খারাপ লাগা থেকে মুক্তি পাবেন। এটি নিমিষেই আপনার মুড চেঞ্জ করে দিতে পারে।
১০. সহকর্মীদের সাথে খোশগল্প করুন
কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সাথে ভালোলাগা-মন্দলাগা নিয়ে আলাপ করুন। চেষ্টা করুন যাতে আলাপগুলো কাজ সম্পর্কিত না হয়। তাদের আগ্রহ, ভাল-মন্দ জানতে চেষ্টা করুন। তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। এটি কাজের পরিবেশ সহজ করে তুলবে।
জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই

আপনার মতামত লিখুন :