জাহালমের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া উচিতঃ শাহদীন মালিক

MD Aminul IslamMD Aminul Islam
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:১৮ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ড. শাহদীন মালিক বলেন, দুদকের মামলায় বিনাদোষে তিনবছর কারাভোগ করেছেন জাহালম। তবে, দুদক তো রাষ্ট্রের অংশ। যেকোনো ফৌজদারি মামলায় সবসময় বাদী হয় রাষ্ট্র। তো সর্বোপরি এই মামলাটি রাষ্ট্র বনাম জাহালমের মধ্যে বিদ্যমান। এখানে রাষ্ট্রের পক্ষ হয়ে দুদক মামলা করেছে। সুতরাং এখানে রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের ফলে জাহালমের ক্ষতি হয়েছে এবং রাষ্ট্রের পক্ষে ভুল স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জাহালমের আইনজীবীদের উচিত ছিল- আজ যে হাইকোর্ট বেঞ্চ জাহালমের জামিনের আদেশ দিয়েছেন, সেই আদালতের কাছে জাহালমের আপাতত পুনর্বাসনের জন্য অন্তত ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া।

জাহালমের আইনজীবীরা হয়তো গিয়ে বলবেন, যে দুদকের দোষী কর্মকর্তাদের শাস্তি দিন। কিন্তু, দুদক কর্মকর্তাদের শাস্তি হলে জাহালমের কী লাভ হবে? প্রশ্ন রাখেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

শাহদীন মালিক বলেন, জাহালমের আইনজীবী আদালতে ক্ষতিপূরণের আবেদন না করলে আদালত তা দেবেন না। কারণ- আদালতের কাজ বিচার করা। দুই পক্ষের কথা শুনে আদালত তার সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ক্ষতিপূরণের জন্য তার আইনজীবীকে আদালতের মাধ্যমে চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেন শাহদীন মালিক।

এর আগে সোমবার রাত ১টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন আলোচিত জামালপুরের জাহালম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় নিরাপরাধ জাহালম তিন বছর কারাভোগ করেন।

রোববার ৩৩ দুর্নীতি মামলায় মূল আসামির বদলে তিন বছর ধরে জেল খাটা নিরীহ জাহালমকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক, মামলার বাদী ও আরও দুই সরকারি কর্মকর্তা আদালতে হাজির হলে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়া আদালতে জাহালমের আটকাদেশ বৈধতার ওপর জারি করা রুলের শুনানি হয়।

রুলের আরও শুনানির জন্য আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

‘৩৩ মামলায় ভুল আসামি জেলে: স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন।

প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ৩৩ মামলায় মূল অভিযুক্ত আসামি আবু সালেকের বদলে তিন বছর ধরে জেল খেটেছেন পাটকল শ্রমিক জাহালম।

আপনার মতামত লিখুন :