ফেনীর নুসরাতের মামলা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে

জেলা প্রতিনিধিজেলা প্রতিনিধি, ফেনী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:২০ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় বেরিয়ে আসছে নানা ফাঁকফোকড়। অভিযুক্ত শম্পাকে আটকের কথা বলা হলেও আদালতে তোলা হয়, উম্মে সুলতানা পপি নামের আরেক ছাত্রীকে। এদিকে, রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য আদালতে নুসরাতের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না। আর এসব জটিলতার কারণে আসামিদের পার পেয়ে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন পাবলিক প্রসিকিউটর।

ফেনীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত রাফিকে দাহ্য পদার্থে ঝলসে দেয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৮ এপ্রিল রাতে ভিকটিম রাফির ভাই বোরখা পরিহিত অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি দিয়ে মামলা করেন।

তবে ৯ এপ্রিল পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন করে বলা হয়, রাফির ভাই ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি এজাহার দাখিল করেন। ৮ এপ্রিল লাইফ সার্পোটে নেয়ার আগে মুমূর্ষ রাফি চিকিৎসকদের কাছে জবানবন্দিতে আগুন দেয়ার সাথে জড়িত সম্পা নামে একজনের কথা উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক খন্দকার গোলম ফারুক সম্পাকে আটকের কথা জানান। তিনি বলেন, চম্পা বা সম্পা কোনো একটা নাম আছে এখানে। নামটা কিন্তু কনফার্ম না। তারপরও ওই নামে মেয়েটাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

তবে, বুধবার দুপুরে এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয় উম্মে সুলতানা পপি নামের সেই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থীকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেনের দাবি, সম্পা নামের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হয়েছে। তারমধ্যে ৬ জন অজ্ঞাতনামা। ৩ জন এজাহারনামী আসামি। সম্পা নামে কাউকে আমরা গ্রেফতার করিনি।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সম্পাকে আদালতে হাজির না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলমগীর। তিনি বলেন, আদালতে যে এজাহার দাখিল করা হয়েছে সেখানে সম্পার কোনো অস্তিত্ব নাই। বিভিন্ন সংবাদপত্র, এমনকি ডিআইজি-ও বলেছেন, সম্পা পুলিশ হেফাজতে আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাকে আদালতে আনতে দেখলাম না।

তদন্তে গরমিলের সুবিধা নিয়ে আসামিরা পার পেয়ে যাবার চেষ্টা করবে বলে মনে করেন পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহম্মেদ। তিনি বলেন, সঠিকভাবে তদন্ত করে সিএস’টা দাখিল না করে সেক্ষেত্রে আসামিরা উপকৃত হয়। সঠিক ভাবে তদন্তের পর চার্জশিট দিলে বাদী তার সুফল পায়।

আইনজীবী সাইফ উদ্দিন মজুমদার বলেন, এজাহারকারী ঢাকায় থাকার কারণে ওকালতনামা দিতে পারেননি। তবে স্ব-প্রণোদিত হয়ে অনেক আইনজীবী রাফির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

এ ঘটনায় সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নতুন করে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আরেকটি ভবনে ডেকে নিয়ে শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় একদল মুখোশধারী।
জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই

আপনার মতামত লিখুন :