শমসের গাজীর ঐতিহাসিক “মসজিদ”
দীর্ঘযুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় চন্দ্রপুর মসজিদ
আগরতলা বিলোনিয়ার ডিমাতলি গ্রামে চন্দ্রপুর মসজিদ অবস্থিত। বাংলাদেশ বর্ডার থেকে ভারতের আগরতলারদুই কিলোমিটার ভিতরে। মূল মসজিদটি একটি ছোট টিলার উপর স্থাপিত। সেখানে আরও দুটি স্থাপনা রয়েছে। বর্ণনা মতে মধ্যযুগের ভাটির বাগ শমসের গাজী এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, সেখানকার জনসংখ্যা কম হওয়ার কারণে গাজী খুব বড় মসজিদ তিনি তৈরি করেননি। মসজিদটির উপরের সাদা তিনটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের ভিতরে মিম্বর রয়েছে। মসজিদটিতে একসাথে ২০/২৫ জন নামাজ পড়ার ব্যবস্থা ছিলো। মসজিদটির নির্মান অসম্পুর্ন হওয়ায় স্থানীয়রা ধারনা করেন এখানে কেউ কখনো নামাজ পড়েনি বা পড়তে পারেনি। মসজিদের আশেপাশে লোক বসতি নেই বললেই চলে।
স্থানিয়দের কারো কারো মতে এটি একটি মসজিদ, কারো ভাষ্যমতে এটি একটি মন্দির, আবার কারো কারো মতে এটি একটি সমাধি। দীর্ঘযুগ ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল বন জঙ্গলে ভর্তি ছিল। ১৯০২ সনের দিকে স্থানীয় লোকজন কাঠ কাটতে গেলে এর স্থাপনা আবিষ্কার করে। পরে স্থানীয় এমএলএ সুধন দাস এটি পরিষ্কার এর ব্যবস্থা করে।
১৯৯২ সনে ৬জুন বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদে ভারতের সিপিএম সরকার স্থানীয় এমএলএ সাধন দাস ১৯৯৩ সনে ৬ই জুন এখানে সকল ধর্মের একটি সংহতি মেলা চালু করেন। সেখানে বিভিন্ন ধর্মের লোকজন এসে বক্তৃতা করত। এটি দেখতে তখন বাংলাদেশ থেকে প্রচুর লোকজন আসত। বর্তমানে সিমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ থেকে কেউ আসতে পারে না। বর্তমানে বিজিবি ক্ষমতায় আসার ফলে এটা নতুন নামকরণ হয়েছে মিলন মেলা।

