বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি
অনলাইন ডেস্ক:>>>
আসন্ন রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী ছড়াছড়ি মেয়র পদে একাধিক প্রার্থী টমন না হলেও কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর সংখ্যা খুলনা ও গাজীপুরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
তাদের বেশিরভাগ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন মেয়র পদে যেমন বিদ্রোহী প্রার্থী আছে, তেমনি আছে কাউন্সিলর পদেও
মেজর পদে শাসক দল না, বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপি ও তাদের ২০ দলীয় জোটে শাসক দল শুধু কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে সংশয় রয়েছে
তিনটি সিটি স্থানীয়ভাবে এক প্রার্থীকে সমর্থন করলেও তা মানয় না অন্যরা প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একাধিক প্রার্থী রয়েছে।
এ নিয়ে বিপাকে দল দুটি হেকমন্ড কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে মেয়র পদে জয়ের পথে বাধা হতে পারে মনে হচ্ছে দলের নেতারা।
তাই যে কোনওভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মারিয়া জ্যেষ্ঠ নেতারা তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় আওয়ামী লীগ
দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হোন না তারা অন্যদিকে বিদ্রোহ দমনে বেশ হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি
মেয়র পদে নিজ দল ও জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাক পড়া দলটি কাউন্সিলর পদে দল একাধিক প্রার্থী তো আছেই এই সব সঙ্গে যোগ করা অভ্যন্তরীণ কৌতুক তিনটি সিটি জয়ের ক্ষেত্রে বিদ্রোহ দমনই দলের মূল চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে।
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিন মেয়র প্রার্থী বিপরীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মোট ২৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সিলেটের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বদরউদ্দীন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৯ জন, বরিশালে আওয়ামী লীগের সিনিয়র আওয়ামী লীগের সড়ক আবদুল্লাহ, বিএনপি মজিবর রহমান সরোয়ার, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপসসহ 8 জন এবং রাজশাহী আওয়ামী লীগের আ.হ.ম. খায়রূজ্জামান লিটন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও জাতীয় পার্টির ওয়াসিউর রহমান ডোলোনসহ ৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন
তিন সিটি মেয়র পদে আওয়ামী লীগ কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও সিলেটে বিএনপি একটি বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া। পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম অংশীদার জামায়াত ইসলামীর এক নেতা।
রাজশাহী ও বরিশালে ত্রিশটি এবং সিলেটে ২৭ টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ তিন সিটি মোট 87 ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা ৪০৮ জন।
২৯ টি সংরক্ষিত (মহিলা) কাউন্সিলর পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে ১৪৭ জন এর মধ্যে রাজশাহী সাধারণ কাউন্সিলর ১৭০, সংরক্ষিত ৫২২; বরিশাল সাধারণ কাউন্সিলর ১১৪, সংরক্ষিত ৩৮ এবং সিলেটের সাধারণ কাউন্সিলর ১২৪, সংরক্ষিত৫৭
মনোনয়নপত্র জমা দিন শেষ দিন বৃহস্পতিবার তিনটি সিটি ১ এবং ২ জুলাই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-নির্বাচন, মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষ দিন ৯ জুলাই, প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১০ জুলাই। এবং ভোট গ্রহণ আগামী ৩০ জুলাই।
বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে দল কিয়ানি জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিত্বে সদস্য ড। আব্দুর রাজ্জাক শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, দলীয় কোন্দল এবং অসভ্যতা এড়াতে আমরা কাউন্সিলর পদেও সমঝোতার চেষ্টা করছি।
একক প্রার্থী নির্বাচনে কাজ চলছে কিন্তু এ নিয়ে এখনই দলীয় শাস্তির কথা ভাবছে না তারা আশা করি দল স্বার্থে সব ওয়ার্ডে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা যাতে স্থানীয় নেতারা সার্বিক সহযোগিতা করতে পারেন।
সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহজীর কবির নানক।
তিনি বলেন, অনেক ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী আছে। আমরা চেষ্টা করছি সেসব ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী দেয়ার জন্য মনোনয়ন প্রত্যাহার নির্ধারিত তারিখের আগে এটি হয়ে যাবেন আশা করছি আর যদি কোনও সংযত না হয় তবে নির্বাচন সবার জন্য খোলা থাকবে।
কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের মূল টার্গেট মেয়র সবাই একক থেকে মেজর জন্য কাজ করুক যে পথটা আমাদের তৈরি করতে হবে
সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নিজ দল ও জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপিএ পড়েছে বিএনপি। এ দুটি সিটি মধ্যে সিলেট তার দল বিদ্রোহী প্রার্থী পাশাপাশি জোটের শরিক জামায়াত ইসলামী প্রার্থী এছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া।
এবং বরিশালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জোটের শরিক ভগবত মজলিসের প্রার্থী তবে একক প্রার্থী ঠিক করতে জোটের শরিকদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা
জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগন্তকে বলেন, মেয়র পদে তিনটি সিটিতেই জোটের একক প্রার্থী রয়েছে।
সিলেট ও বরিশালে শরীয়দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে যথাযথভাবে তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবে
সিলেটের মেয়র পদে প্রার্থীতা নিয়ে সর্বাধিক বিপক্ষ বিএনপি এ সিটি বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মহানগর সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম মনোনয়নও জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি জোটের শরিক জামায়াতও প্রার্থী দিয়েছেন তাদের প্রার্থী মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জোবায়ের
বরিশালে বিএনপি প্রার্থী পাশাপাশি জোটের শরিক খিলাফত মজলিসের কাছে প্রার্থী দিয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী সাবেক মেয়র ও বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার এবং কেরফাত মজলিসের বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক একেএম মাহাবুব আলমও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
তিন সিটে একক প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে ২0 দলীয় জোটের সে ক্ষেত্রে সিলেট ও বরিশাল সিটি জোটের দুই সহযোগী দলের প্রার্থী সম্পর্কে আতঙ্কিত অন্য দলীয় দল। ইতিমধ্যেই জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করার জন্য জামায়াত ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে যে কোনও দিন তিনটি সিটি নির্বাচন পরিচালনা স্থায়ী কমিটির তিন সদস্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দায়িত্ব হবে BNP জানা গেছে, বি.এ.



