লঙ্ঘিত আচরণবিধি

জিএস নিউজজিএস নিউজ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:২৪ এএম, ২৬ জুলাই ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার:>>>

বরিশাল সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার পৃথকভাবে মেয়র প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠাচ্ছেন। তাঁরা সেই নোটিশের জবাব দিচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা কৌশলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি এড়িয়ে

যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

একটি অভিযোগের জবাবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বলছেন, ধর্মীয় উসকানিমূলক বিষয়টি আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। আর সরকারি দুই কর্মকর্তা অভিযোগের জবাবে বলেছেন, তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি আগে জানতেন না। এর পরও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তাঁরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মেয়র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৭টি অভিযোগ পড়েছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সবচেয়ে বেশি আটটি অভিযোগ পড়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাতটি এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ পড়েছে। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য চারজনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এমনকি এই চার প্রার্থী লিখিতভাবে কোনো মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগও তোলেননি। তবে সব প্রার্থীই প্রচারণার সময় অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার এবং ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহাবুব এখন পর্যন্ত দুটি করে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন। নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ একটি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়াম ব্যবহার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের অভিযোগের জবাবে কলেজ অধ্যক্ষ ও মেডিক্যালের পরিচালক দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

বিএনপি প্রার্থীর জবাব

বিএনপির প্রার্থী সরোয়ারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া ও জনসভা করে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিশের জবাবে সরোয়ার উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করা অভিযোগপত্রের কোথাও উল্লেখ নেই যে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কিংবা প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো দল বা রাজনৈতিক দলের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। কমিশনের দায়িত্ব হলো প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সরকার কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার সমালোচনা করা সাংবিধানিক অধিকার। অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না থাকায় প্রতীয়মান হয় যে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জবাব

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। লিখিত জবাবে তিনি সাদিক আবদুল্লাহকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে উল্লেখ করেন, ‘নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ১৮ জুলাই শেবাচিম হাসপাতাল এলাকায় গণসংযোগ করতে যান। এ সময় চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অনুরোধে মেডিক্যাল কলেজে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে দেখেন তাদের পূর্বনির্ধারিত একটি সভা চলছে, যা প্রার্থী অবগত ছিলেন না। তিনি সেই সভায় অংশগ্রহণ না করে উপস্থিত চিকিৎসক, কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। আচরণবিধি ভঙ্গের মতো কোনো কাজ করেননি। ভবিষ্যতে প্রচার-প্রচারণার কাজে আরো সতর্ক থাকব।’

এদিকে ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগের জবাবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহবুব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে আচরণবিধির ব্যাখ্যামূলক সুস্পষ্টতা না থাকায় আমাদের কাছে অনেকটা অস্পস্ট ছিল। ভবিষ্যতে আচরণবিধি যথাযথ পালনের প্রতি লক্ষ রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন কারণ দর্শাতে গিয়ে বলেন, ‘১৯ জুলাই কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের অনুরোধে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ মেডিক্যাল ক্যাম্পাসে আসেন। ওই অনুষ্ঠানে কলেজের ছাত্র নেতৃবৃন্দ আমাকে দাওয়াত করে। আমি তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি মাত্র। সেখানে কোনো নির্বাচনী কথাবার্তা হয়নি। একজন মেহমান হিসেবে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এতে যদি আচরণবিধির কোনো ধারা লঙ্ঘিত হয়ে থাকে তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে নির্বাচনবিধি সম্পর্কে আরো সতর্ক ও সচেতন থাকব।’

একই ধরনের জবাব দিয়েছেন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর সাহা। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এমবিবিএস ছাত্রদের আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। আমি তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি মাত্র। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা বোধগম্য নয়। যদি কোনো কারণে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকে তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি দুই কর্মকর্তা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তাই অভিযোগ থেকে ওই দুই কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। একইভাবে হাত পাখার (ইসলামী আন্দোলন) মেয়র প্রার্থীকেও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। তবে নৌকা ও ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আরো যাচাই-বাছাই করা হবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :