বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন সম্পাদক পরিষদের ।
স্টাফ রির্পোটারঃ>>>>>>>
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৯টি ধারা সংশোধনের দাবিতে আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে সংবাদপত্রের সম্পাদকের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা অংশ নেন।
এইসময় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে মনে করি। তিনি আরও বলেন সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন আলোচনা বন্ধ হয়নি। এটা ইতিবাচক। কিন্তু আলোচনার নামে যেন প্রহসন না হয়।
সম্পাদক মাহফুজ আনাম আরও বলেন ‘আমরা মনে করি এ আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নই। আমরা এ আইনটির বিশেষ কতগুলো ধারার সংশোধন দাবি করছি।’
সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত শনিবার মানববন্ধনের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান আইনটি শুধু সাইবার জগৎ নয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার আইন। আমরা চাই আগামী সংসদ অধিবেশনে এ আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক।
এ সময় মাহফুজ আনাম পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন।
সম্পাদক পরিষদের দাবিঃ
১. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।
২.পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে; কিন্তু কোনো কম্পিউটারব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।
৩. কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কমপিউটারব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।
৪. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটি বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না।
৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলার গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।
৬. এ সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।



