রাজশাহীতে টেন মিনিট স্কুলের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হামলা
রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজে ‘টেন মিনিট স্কুল’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।
এসময় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখা হয় ‘টেন মিনিট স্কুল’ এর উদ্যোক্তা আয়মান সাদিককে। তাদের একজন সদস্যকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে বৃহস্পতবার এ তাণ্ডব চালায় ছাত্রলীগ।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজ মিলনায়তনে কলেজের ডিবেটিং ক্লাবের ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পশ্চিমা বিশ্বই প্রধান অন্তরায়’ শিরোনামে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ‘বার্ষিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও কর্মশালা-২০১৮’ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল।
এরপরই ছিল ‘এইচ এসসি কোর্স ও মাস্টার্স কোর্স’ এর আয়োজন করা হয়েছিল। এ অনুষ্ঠান ৩ টা পর্যন্ত চলে। অনুষ্ঠানে মোট তিন- চার হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
কলেজের অধ্যক্ষ জার্জিস কাদির জানান, অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে শিক্ষার্থীরা উপভোগ করেছেন। তিনিও সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর আয়মান সাদিকের সঙ্গে ছেলেমেয়েরা সেলফি তোলার জন্য ভিড় করছিল। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা এসে অভিযোগ করেন যে, কলেজের দর্শন বিভাগের একজন শিক্ষক তাদের গালি দিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছেন। তার বিচার করতে হবে।
অধ্যক্ষ বলেন, ‘যেভাবে বিচার করলে তোমরা খুশি হও আমি সেইভাবে বিচার করব। আমাকে পাঁচটা মিনিট সময় দাও। এ কথায় তারা আশ্বস্ত হয়ে চলে যায়।’
এরপরে অধ্যক্ষ বলেন এরপর তিনি আয়মানকে নিয়ে তার কার্যালয়ে এসে নাস্তার ব্যবস্থা করছেন। এমন সময় ছাত্রলীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম ওরফে বাপ্পি ক্যাম্পাসে আসেন।
মুঠোফোনে তিনি অধ্যক্ষের সঙ্গে উত্তেজিত ভাষায় কথা শুরু করেন। অধ্যক্ষ বিচারের জন্য পাঁচ মিনিট সময় চান। কিন্তু সভাপতি তাকে দুই মিনিট সময় দেন। তাছাড়া কলেজের উন্নয়ন শেষ করে দেয়ার হুমকি দেন।
অধ্যক্ষ বলেন, এ কথা শুনে তিনি নিচে গিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতিকে বুঝিয়ে তার হাত ধরে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তার কার্যালয়ে সামনের বারান্দায় ঢুকেই তিনি একজন ছাত্রকে থাপ্পড় দিয়ে ফুলের টব ও ডাস্টবিন ভাঙচুর শুরু করেন।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি মাইনুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, একজন শিক্ষকের কারণে অতিউৎসাহী কিছু ছেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, আয়মান সাদিকের আগমন উপলক্ষে কলেজের অধ্যক্ষ আগের দিনই তাকে এবং তার সাধারণ সম্পাদক বাইতুল হোসেন ওরফে তরুণকে ডেকে বলেছিলেন যেন কোনো ঝামেলা না হয়। সংগঠনের কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে থাকে। তাদের সেইভাবে বলে রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, দর্শন বিভাগের একজন শিক্ষক ছাত্রলীগের বহিষ্কার করা তিনজন ছাত্রকে গালি ও ধাক্কা দিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছেন। তারপরে জায়গা না পেয়ে বাইরে হাইবেঞ্চে বসা সম্মান শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রকেও ওখানে বসার জন্য অপমান করেছেন। এরপর সংগঠনের অতি উৎসাহী ছাত্ররা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠান শেষে চা-চক্র চলছিল। এ সময় অনুষ্ঠানের সামনে বসার জায়গা না দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগ নামধারী কিছু ছেলে ফুলের টব ও চেয়ার ভাঙচুর করেছে। কাউকে মারেনি। কলেজের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগও দেওয়া হয়নি।



