বিপুল পরিমানে টাকা ও ফেনসিডিলসহ চট্টগ্রামের জেলার আটক

GS News 24GS News 24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫২ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টারঃ>>>

মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্যেই গতকাল শুক্রবার ১২ বোতল ফেনসিডিল ও প্রায় ৪৪ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। গোপন এক সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব রেলওয়ে থানাপুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এর পর জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা নিজ এবং ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করেন।

 

গতকাল দুপুরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রেলওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ভৈরব স্টেশনে দুপুর পৌনে ১টার দিকে সোহেল রানার কেবিনে তল্লাশি চালায় রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় তার লাগেজ থেকে ১২ বোতল ফেনসিডিল এবং ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পরে তাকে রেলওয়ে থানায় নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি মাদক সেবন ও মাদক কারবারে জড়িত থাকার কথা নিজে স্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের নামে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ৩টি চেক, স্ত্রী হোসনে আরা পপির নামে ১ কোটি টাকার দুটি এবং শ্যালক রকিবুল হাসানের নামে ৫০ লাখ টাকার একটি এফডিআর বের করে দেন। রেলওয়ে পুলিশ সেগুলোও জব্দ করে।

 

সোহেল রানার বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের আরকে মিশন রোডে। বাবার নাম জিন্নাত আলী বিশ্বাস। ১৮ বছর ধরে চাকরি করছেন কারা বিভাগে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর আগে তিনি এক বছর নরসিংদী কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মজিদ জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। নিজেও মাদক সেবন করতেন বলে জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। ওসি আমাদের সময়কে জানান, গ্রেপ্তারের পর জেলার সোহেল রানা মুক্ত হতে মোটা অংকের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

 

পুলিশ সুত্র জানায়, টাকার উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে সোহেল রানা বলেছেন, জব্দ করা পুরো টাকা তিনি অবৈধ প্রক্রিয়ায় পেয়েছেন। ওই টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা তার নিজের। ট্রেনে ওঠার আগে কারাগারে বন্দিদের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একজন ঠিকাদার তাকে এ টাকা দিয়ে যান। বাকি টাকা কারা বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি পার্থ কুমার বণিক ও চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের বলে দাবি করেন সোহেল রানা। তিনি আরও বলেন, ১ নভেম্বর ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে জেলারদের সম্মেলন হবে। ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি তিন দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। ওই দুই কর্মকর্তা চট্টগ্রামেই থাকেন। সর্বশেষ দুই মাসের মাসোহারা তার কাছ থেকে চট্টগ্রামে না নিয়ে ঢাকায় গিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তারা। সে অনুযায়ী তিনি ওই টাকা বহন করছিলেন নিজের সাথেই।

 

পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পেছনে ওই দুই কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, ঘুষের টাকার লেনদেন নিয়ে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না কিছুদিন যাবত।

 

কারা বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি পার্থ কুমার বণিক তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, সোহেল রানা মাদকাসক্ত। তার ব্যাপারে ইতিপূর্বে কারা মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :