সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিটলারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বদলী বানিজ্যসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা গুলোর প্রতিকার চেয়ে সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষক নেতা, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিটলারুজ্জামান কাজে যোগদানের পর থেকে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বদলী বানিজ্যসহ অন্যায় অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে খবর ইতিপূর্বে-পত্রিকাতেও প্রকাশ হয়। কারণে-অকারণে তিনি শিক্ষকদের ব্যাপক হয়রানি করে থাকেন। শিক্ষকেরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না চাকুরী হারানোর ভয়ে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, হিটলারুজ্জামান গত বছরের জুলাই মাসে সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করার পর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের স্লিপ উন্নয়ন বরাদ্ধ থেকে বিদ্যালয় প্রতি পাঁচ হাজার টাকা আদায় করেছিল।
গত অর্থ বছরে প্রতিবন্ধি শিশুদের জন্য উপজেলা ভিত্তিক উপকরণ প্রদান খাতের বরাদ্ধকৃত ৫০ হাজার টাকার ভুয়া বিল ভাউচার এর মাধ্যমে উত্তোলন করে টাকা আত্মসাত করে। উপজেলার কোন বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের উক্ত অর্থবছরে কোন উপকরণ দেওয়া হয়নি ও ছোটদের শেখ হাসিনা নামক বই বিক্রিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার জয়নাল আবদীন সরকারি প্রাঃ বিঃ ও দাগনপাড়া মোশারফ হোসেন সরকারি প্রাঃ বিঃ (নব জাতীয়করণকৃত) এর ৭ জন শিক্ষকের বকেয়া বিল পাশ করার জন্য ১ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে বলে জানান ভূক্তভোগীরা।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়, অক্টোবরে নতুন নিয়োগকৃত ৪৬ জন সহকারী শিক্ষকের যোগদান ও নতুন সার্ভিস বই চালু করার কথা বলে নব্বই হাজার টাকা, ৫ম শ্রেণির অভ্যন্তরীণ মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে ছাত্র প্রতি ৫০ টাকা হারে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা ও উন্নয়ন মেলার নামে বিদ্যালয় প্রতি এক হাজার টাকা করে লক্ষাধিক টাকা আদায় করে হিটলার।
চলতি বছরের বদলি মৌসুমে জানুয়ারি-মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত উপজেলার অভ্যন্তরে এবং উপজেলার বাহিরে মিলিয়ে প্রায় ৫০-৬০ জনের অধিক শিক্ষক বদলি করে বদলি বাবত প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে বলে ভূক্তভোগীরা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, মৌখিক ডেপুটেশান দেওয়ার বিধান না থাকলেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষক প্রতি দশ হাজার টাকার বিনিময়ে বিধি বর্হিভুত ডেপুটেশান প্রদান করে। টাকার বিনিময়ে বিধিমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষকদের ডিপিএড প্রশিক্ষণে পাঠানো ও পুনরায় একই বিদ্যালয়ে মৌখিক ডেপুটেশন দিয়ে রাখা হয়।
উপজেলায় দৈনিক গড়ে ৪/৫টি বিদ্যালয় বিভিন্ন শিক্ষকের হোন্ডায় চড়ে পরিদর্শন করে, পরিদর্শনের নামে বিভিন্ন শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে আবার টাকার বিনিময়ে কৈফিয়ত প্রত্যাহারের একটি স্বঘোষিত নিয়ম চালুর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।এঅবস্থায় উপজেলায় সকল শিক্ষকের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ উপজেলার ৪/৫ জন শিক্ষককে হাত করে এ সকল অপকর্ম ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী ও বিক্রিতেও রয়েছে হাজারো অভিযোগ।
এ ঘটনা গুলোর প্রতিকার চেয়ে ও তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করে চলতি মাসে সোনাগাজী উপজেলার সুশীল ও সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ফেনী জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের দায়ের করেছেন। যোগাযোগ করলে এ প্রসঙ্গে সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা হিটলারুজ্জামান কথা বলতে রাজি হননি।
জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই



