নুসরাতের জানাজার মাঠে আছে অপরাধীরাঃ নাসিম
ফেনীর সোনাগাজীতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার সঙ্গে জড়িতরা তার নামাজের জানাজার মাঠে উপস্থিত ছিল। অপরাধীরা এ মাঠেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।
নাসিম বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের আসামিরা যদি ৪০ হাত মাটির নিচেও থাকে, তাদের সেখান থেকে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। নুসরাত পুরো বাংলাদেশের একটি প্রেরণার নাম। নুসরাত দেখিয়ে গিয়েছে কিভাবে প্রতিবাদ করতে হয়। এই ছাত্রীর আত্মার মাগফেরাতও কামনা করেন আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।
বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফেনীর সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা-পূর্ব বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
নুসরাতের বাবা মাওলানা মাওলানা এ কে এম মুসা বলেন, আমার মেয়ের আত্মা তবেই প্রশান্তি পাবে, যদি সে সুবিচার পায়। আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নুসরাতের ভাই নোমান বলেন, আমার বোন দীর্ঘ ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। বোন আমার যে কষ্ট করেছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। আইসিইউতে আমার বোন বাবার কাছে ক’ফোটা পানি চেয়েছিল, বাবা দিয়েছিলেন সেই পানি। আমি আমার বোন হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মারা যান নুসরাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নুসরাতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা।
গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওইদিন নুসরাতকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে নিয়ে বোরখাপরা চারজন তাকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই



