নুসরাত হত্যা মামলাকে ‘তথাকথিত’ বললেন পৌর কাউন্সিলর লিটন

MD Aminul IslamMD Aminul Islam
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৫৯ এএম, ২৮ মে ২০১৯

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার মামলাকে ‘তথাকথিত হত্যা মামলা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন সোনাগাজী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক নুরনবী লিটন।

সোমবার (২৭ মে) ‘সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সকল সহযোগী সংগঠন’র ব্যানারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তৃতাকালে লিটন এ আখ্যা দেন। অনুষ্ঠানের ব্যানারে নুসরাত হত্যা মামলার আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের ছবিও রাখা হয়।

অবশ্য এতে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনসহ বেশিরভাগ নেতাকর্মীই অংশ নেননি। রফিকুল ইসলাম খোকন বলেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে এ ইফতার মাহফিলের কোনো সম্পর্ক নেই।

সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াতুল হক বিটুর সভাপতিত্বে ও জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন আরিফ ভূঞার সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু, মঙ্গলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বাদল, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন ও ইউপি সদস্য আবদুস সালাম খোকন।

আরও উপস্থিত ছিলেন চরচান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম মানিক, নবাবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুপম শর্মা, বগাদানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন বাবুল, সোনাগাজী পৌর যুবলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন অপু, যুবলীগ কর্মী আবদুল হালিম সোহেল।

নুরনবী লিটন বলেন, শিবির-অনুপ্রবেশকারীদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই সোনাগাজীকে আওয়ামী লীগশূন্য করার চেষ্টা চলছে। তাই আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও জনবান্ধব নেতাদের বিচ্যুত করার জন্য এবং আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। যারা আজকে চেয়ারে বসে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে দিতে চাই, কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোনোর সময় এসেছে। এখনো সাবধান হয়ে যান। নতুবা আপনাদের কুকর্ম যখন জনসম্মুকে আসবে, পুলিশ কিংবা র‌্যাব নয়, এলাকার জনগণ আপনাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করবে। সেদিন বেশিদূর নয়।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, আজকে ঢাকায় বসে সেই তথাকথিত নুসরাত হত্যা মামলা নিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বক্তব্য দিচ্ছেন, বিবৃতি দিচ্ছেন, দুর্নীতির অর্থ ঢালছেন। মনে রাখবেন আপনাদের দিন শেষ হয়ে আসছে।

ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া অন্য বক্তারাও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা থেকে রুহুল আমিনকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বাংলানিউজকে বলেন, আয়োজকেরাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হলেও তারা রুহুল আমিনের অনুসারী। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। নুসরাত হত্যা মামলার দায়িত্ব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) নিয়েছেন। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্তে যদি রুহুল আমিন নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে কারও কিছু করার নেই। আবার দোষী প্রমাণিত হলেও কারও কিছু করার নেই। তদন্তাধীন বিষয়ে আমি এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি নই।

রুহুল আমিনের কারামুক্তি চেয়ে অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাগাজী বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ওমর ফারুক।

নুসরাত হত্যায় সরাসরি জড়িত আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের সঙ্গে মোবাইলে কথপোকথনের সূত্র ধরে এবং শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুসারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। শামীম জানান, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর রুহুল আমিনকে শামীম ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, তোমরা চলে যাও।’

জিএসনিউজ/এমএইচএম/এমএআই

আপনার মতামত লিখুন :