জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ আরমান আহমেদ শাফিন হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে সমাবেশ, বিচারহীনতার প্রতিবাদে উত্তাল স্লোগান
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা কলেজ শাখার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি সংরক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আরমান আহমেদ শাফিন হত্যার দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সংগঠনটি।
রবিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা শাখার নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, দেশের আইনের শাসন আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীরবতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাই এই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “শাফিন হত্যার বিচার না হলে রাজপথ ছাড়বে না ছাত্র সমাজ”।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, শাফিনের মতো দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। অথচ যারা ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত ছিল, তারা উপেক্ষিত। তার দাবি, আইন মন্ত্রণালয় ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা এ ঘটনায় স্পষ্ট অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ঢাকা জেলা দক্ষিণের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের যোদ্ধাদের একে একে টার্গেট করা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বহীনতা ও মেরুদণ্ডহীনতা দেশকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে।
বক্তারা শাফিন হত্যার দ্রুত বিচার, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা বন্ধ এবং দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ “শাফিনের রক্তের হিসাব চাই” এবং “জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত বৃথা যাবে না” স্লোগানে মুখর করে শাহবাগ অভিমুখে মিছিল করেন। শেষাংশে শাফিনের স্মরণে নীরবতা পালন ও মোমবাতি প্রজ্বলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর আরমান আহমেদ শাফিন মৃত্যু বরণ করেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।

