“দলে এরা এখন অপ্রাসঙ্গিক”—লিপ্টনের বিস্ফোরক মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:০৫ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আওয়ামী লীগ-এর ফেনী জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি দলের ভেতরের কিছু নেতার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অসঙ্গতি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার আগে অনেক নেতাকর্মীর আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল এবং পরবর্তীতে তারা কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—সে বিষয়ে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা একসময় সাধারণ জীবনযাপন করতেন, তারা কীভাবে কয়েক কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ির মালিক হলেন।

তিনি আরও লেখেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক নেতা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের ‘কষ্টের গল্প’ শোনালেও বাস্তবে দলের প্রয়োজনে ব্যবহৃত সেই কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেই। বরং কিছু নেতার অপকর্মের দায়ভার তৃণমূলকেই বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লিপ্টন তার স্ট্যাটাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির পূর্বে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নেতাদের সম্পদের হিসাব সংগ্রহ করা হোক। তিনি দাবি করেন, এতে দলের ভেতরের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হবে।

এছাড়া তিনি বলেন, কিছু লুটপাটকারী, টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজের কর্মকাণ্ডের কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর হাতে গড়া সংগঠন আজ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেকেই দল ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, ভ্যাট ও ব্যাংক হিসাব খুলে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন—“দলে এরা এখন অপ্রাসঙ্গিক”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান ও তৃণমূলের ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবেই লিপ্টনের এই বক্তব্য দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :