তুমি বন্ধু কেমন বন্ধু?

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:২০ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০১৭

মেয়েদের জন্য সতর্ক বার্তা (Awareness Message for Girls):
বন্ধুত্বের নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা দেয়া কঠিন। বন্ধুত্ব কোনো সমীকরণ মেনে হয় না। বন্ধুত্বের ঘনত্ব পরিমাপ করাও কঠিন। কেউ বলে বন্ধুত্ব হলো পারস্পরিক ভালবাসার একটি মানদন্ড। মনের স্বস্তির নিঃশ্বাস, আত্মবিশ্বাস, সুসময় কিংবা অসময়ে আহবানে সাড়া প্রদান। প্রকৃত বন্ধুত্ব এনে দিবে নির্ভরতা, ভরসা, দুঃসময়ে পাশে থাকার নিশ্চয়তা। বাস্তবতা কি বলে শেষ পর্যন্ত…?
“একদা বনের ভিতর দিয়া দুই বন্ধু হাঁটছিল- এ গল্প মনে করিয়ে দেয় প্রকৃত বন্ধুত্বের সংজ্ঞা এবং Fair weather friend এর সাথে বন্ধুত্ব না রাখা। ইংরেজিতে বন্ধুত্বকে আরও সুন্দরভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়।
Friendship is a symbol of trust and appreciation, a clove of love, a relation in need, a ray of hope, a speck of care, a harmony of thought between, a competition and quarrel among the mates, a circle of activities, a combined effort to do good, a team work for achieving goals ইত্যাদি। সৃষ্টির শুরুতেই বন্ধুত্বকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে নিঃসঙ্গতা (আদম) ‘র বিপরীতে। Man can’t live alone. Man is a social animal. একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য, সহযোগিতা ও সাহচর্য লাভের জন্য একজন আর একজনের কাছে চলে আসে। এ চলে আসাই বন্ধন বা Bondage. সামনে এগিয়ে চলার এ বন্ধনই বন্ধুত্ব বা Friendship.
বন্ধুত্বের সীমা-পরিসীমাঃ
বন্ধুত্ব হতে পারে যে কারো সাথে, তখন বয়স, লেখাপড়া বা আর্থিক অবস্থা বাঁধা হয়ে দাড়ায় না। কাউকে জানতে বা বুঝতে হলেও ফ্রেন্ডলি হতে হয়। সন্তানকে সুপথে রাখতে সন্তানের সাথে বাবা-মা’র বন্ধুত্ব, ভালো টিচার হতে স্টুডেন্টস এর সাথে ক্লাসে বন্ধুত্ব, ভালো ডাক্তার রোগী দেখতে বন্ধুত্ব, রিপ্রেজেন্টেটিভস কাস্টমারস এর সাথে বন্ধুত্ব, টিম ওয়ার্ক করতে অধিনস্তদের সাথে বন্ধুত্ব অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজনেস পলিসির যুগে টিকিয়ে থাকতে বন্ধুত্বের এর বিকল্প নেই।
মানুষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একজন ভালো বন্ধু খোঁজে তাঁর প্রয়োজনে। কারণ, একজন বন্ধু জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার অংশীদারই শুধু না তার অস্তিত্ব ও মর্যাদায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। কোন বন্ধু খুব কাছে চলে আসে কখনও আবার কোন বন্ধু বাস্তবতায় দুরে চলে যায়! অনেক সময় সুখে থাকা বন্ধুরা এড়িয়ে চলে দুঃখে থাকা বন্ধুদের। কখনও নির্মম বাস্তবতা অস্বীকার করে “বন্ধু অর্থ একসাথে চলা, বন্ধু অর্থ নয় ভুলে যাওয়া, বন্ধু অর্থ সবসময় মনে রাখা”।
খুব বেশি নাড়া দেয় যে বন্ধুত্বঃ (The friendship we do miss so much)
মুখে না বললেও জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে বন্ধুদের অনুভব করে সকলে। বিশেষ করে কৈশোরের বন্ধুদের প্রতি অনুভূতি থাকে বেশি। বন্ধুত্ব মানেই সব সময় মিত্রতা নয়, মানুষ যেমন বেঁচে থাকলে বদলায়, বন্ধুত্বও মাঝে মাঝে রূপ পালটায়। বন্ধুরা ছোট খাটো বিষয় নিয়ে মারামারি, দুইজনে এক বান্ধবীকে পছন্দ করা নিয়ে মারামারি, গ্রুপিং, এমন কি চাকু বের করাকরি, সিনেমা স্টাইলে মারামারি, শিক্ষক- অভিভাবক পর্যায়ে গিয়ে নিস্পত্তি। বান্ধবীদের বিয়ে হয়ে গেলে দুইজনে মিলে আবার কলেজে অন্তরঙ্গ বন্ধু হওয়া।
দুরুত্ব বেশি না হলেও প্রেমের চিঠি লেনদেনের বিষয়টি ছিল খুবই মজার ও পুলকিত হওয়ার মত। একজন প্রেমিকার চিঠি পেয়ে সেটা ডাক হরকরার কাছ থেকে নিয়ে পড়ার প্রস্ততির জন্য খুব সযত্নে রেখে দিত কিছুক্ষণ। গোসল করে খেয়ে আয়োজন করে বসত চিঠি পড়তে। প্রেমিকার চিঠির জবাব লিখতে লিখতে তাঁর আঁকাবাঁকা কুশ্রী লেখাও অল্পদিনে ক্লাসের মধ্যে বেস্ট লেখা হয়ে যায়। প্রথম চিঠি লিখতে গিয়ে (প্রেমিকা) প্রাপকের জায়গায় নিজের নাম লেখায় প্রেমিকার চিঠি স্কুলে তাঁর কাছেই চলে আসে। এটা নিয়ে এক স্যার তাঁরে বেত্রাঘাত করে আর বলে গাধা ঠিকানাটা উল্টায়ে লেখ! প্রেমিকার চিঠি মাঝে মাঝে বিয়ারিং হয়ে আসতো। ২ টাকার পোস্টাল খাম কেনার পরিবর্তে সাদা খামে চিঠি আসতো। বিয়ারিং চিঠি ডাক হরকরার নিজ দায়িত্বে আসতো বলে ডাবল খরচ (৪ টাকা) নিতো।
একজন বান্ধবীর সাথে কৈশোর হতে প্রেম করে বান্ধবী সুজাতার বেশে চলে গেলে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মরণ ব্যাধি নেশা ধরে অকালে ঝড়ে যায়-বিষয়টি খুবই ব্যথিত করে। এখনও একবন্ধুর ছেলে আমার ফ্যামিলি পিকচার দেখে এক পোষ্টে মন্তব্য করে “আমাদের এ রকম পিকচার নেই, যেখানে বাবা আছে”। ছেলের এ আহাজারি মাদকাসক্ত বাবার কারণে। আরও বেশি কষ্ট অনুভব হয় তখন। এমন স্কুলজীবনের অন্তরঙ্গ বন্ধুদের হারিয়ে ফেলার স্মৃতি বেশি পীড়া দেয়। একটা সময় যাঁরা স্কুলের পোশাক গায়ে চেপে ছুটে বেড়িয়েছেন, একসাথে খেলিয়েছেন উন্মত্ত বন্ধুত্বের আলিঙ্গনে। তাঁরা তখন ভেবেছিলেন, একে অন্যকে ছাড়া থাকতেই পারবেন না। কিন্তু কেউ (মেয়ে বন্ধু) হারিয়ে গেছে লেখাপড়া না করে বাল্যবিবাহে, কেউ আর্থিক অনটনের কারণে ড্রপআউট, কেউ বা অনেক চেষ্টা করেছে ভাগ্য তাঁকে বঞ্চিত করেছে। আবার অনেকে উচ্চপদে চাকুরি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত নস্টালজিক মনুষ্যত্ব তাদের বাল্যবন্ধুদের খুঁজে ফিরে বিভিন্ন অকেশন বা পুনর্মিলনীতে। অতঃপর একে অন্যকে খুঁজে পাওয়া এবং সময়ের ব্যবধান ও সামাজিক মর্যাদা এখনও যে তাঁদের বন্ধুত্বে দেয়াল হতে পারেনি- এটাই প্রকৃত বন্ধুত্ব।
আধুনিক বন্ধুত্বঃ
তথ্য-প্রযুক্তির বদৌলতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বন্ধুর কোনো অভাব নেই। আমি বলে থাকি ফেজবুকের ফ্রেন্ড কোন ফ্রেন্ড না। তবে ভালো কাজ-কর্মের মাধ্যমে কারো সাথে সম্পর্ক হলে ভালো। বন্ধুত্ব হয়, ভালোবাসাও হয়। আমার মনে হয় এ ধরণের ভালোবাসার নায়ক আর নায়িকারা বয়ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ড বলে সমধিক পরিচিত। আমরা বয়ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ড বলতে শ্রেফ বয় আর গার্ল কে বুঝতাম। কিন্তু এখন টিনেজরা বয়ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ড এর রিলেশন ও শর্ত কি তাও ইংলিশ ডিকশনারি থেকে অর্থ করে দেয়।
যা হোক, সুবন্ধু নির্বাচনঃ Selection of a good partner টপিক থেকে সতর্ক বার্তা (Awareness Message) মেয়েদের জন্য, বিশেষ করে বন্ধু নির্বাচনের আগে তাকে মন থেকে জানুন ও দেখুন, বাহ্যিকভাবে না, ভিতরটা জানুন। চোখের দেখা না, মনের দৃষ্টিতে দেখুন।
১। ছবিতে সুন্দর (handsome-মাক্কাল ফল) একটি ছেলে ও অবোধ একটি বালিকা একটি বিনোদন কটেজে বসে আছে। দুপুর বেলা, ২০১২ সাল, আমরা বিশেষ কাজে যাচ্ছিলাম, বিনোদন পার্কের ভিতরে গিয়ে হাঁটছি। ঐ কটেজের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম আমার সাথে আরও লোক ছিল। মেয়ে ও ছেলে মুখোমুখি দুই বেতের চেয়ারে, ছেলের পা দুটো মেয়ের কোলের উপর। ছেলের চোখে সানগ্লাস, না দেখার ভান করছে। কিন্তু আমরা তো না দেখার ভান করতে পারলাম না।
অর্ডারলিকে বললাম, ওনাদের একটু সতর্ক কর। সতর্ক করতে গিয়ে মাক্কাল ফলকে একটু ধাক্কা দিয়েছে। উনি চেতে উঠে আমার অর্ডারলিকে বকাঝকা করতে লাগলো। এগিয়ে গিয়ে ছবিটা তুললেন এক এএসপি (প্রবি)। মেয়ে SSC পরীক্ষা দিয়েছে, একটা কম্পিউটার বই নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছে কোচিং করার কথা বলে। ছেলে বড় ব্যবসায়ীর পোলা। মেয়েকে বললাম, কতদিন থেকে সম্পর্ক। বলল, ক্লাস এইট থেকে প্রায় তিন বছর। বললাম, খুব পছন্দ কর ওকে? বলল, হ্যাঁ।
প্রায় একমাস পর, ডিবি অফিসে এক এসআই বললেন, স্যার একটু অফিসে আসবেন। একটা ছেলে এনেছি জিজ্ঞাসাবাদ! ডিবি অফিসে ঢুকে দেখি সুন্দর একটি ছেলে। বললাম, তোমাকে কোথাও দেখেছি, ভালো ঘরের ছেলে। ও জবাব দিল, স্যার আপনি এখানে অনেকদিন তাই আপনার অনেককেই পরিচিত লাগে। আমি বললাম, নো ব্রাদার, তোমাকে কোথায় দেখেছি বল? কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর অবস্থা বুঝতে পেরে বলল, স্যার আপনি একদিন একটি মেয়েসহ পার্কে ধরেছিলেন। এবার বললাম তুমি ঐ মেয়েটিকে ডাকো। কল করলো মেয়েটি আসলো।
মেয়েটিকে বললাম, তোমার গুণধর প্রেমিক এখানে? বলল, স্যার পুলিশ তো কতজনকে ধরে নিয়ে আসে। আমি বললাম তাই! ওরে শুনালাম, পুলিশ ধরেনি, পাবলিক ধরে দিয়েছে হাতেনাতে হুন্দির ২০ লাখ টাকা ছিনতাইকালে। এবার ওদের প্রেমের Postmortem এর জন্য দুইজনের মোবাইল নম্বর নিলাম।
৭/৮ দিন পর, মেয়েটিকে অফিসে ডাকলাম, বললাম, তুমি ওকে খুব ভালোবাসো?
মেয়ে মাথা নাড়ল, হম। তুমি এই নম্বর গুলিতে কল দাও। নম্বর গুলিতে একটার পর একটা কল দিচ্ছে আর মন ভার হয়ে যাচ্ছে। ৯ টি নম্বরে কল করে বলল, স্যার, ৮ টি নম্বর খোলা পেয়েছি, সবই মেয়ে কণ্ঠে, একটিও ছেলে কণ্ঠ নেই।
মেয়েকে বললাম, ও তোমার সাথে দিনে কতক্ষণ কথা বলে? বলল, স্যার আগে ২, ৩ ঘণ্টা, কখনও সারারাত। আর এখন দুই একবার ৫, ৬ মিনিটের বেশি না। ব্যবসার কথা বলে, ব্যস্ত থাকে। বুঝতে পারছ? বাকী সময় কাদের সাথে কথা বলে। আরও তোমার মতো কত জনের সাথে সময় দেয়।
মেয়ে নীরব, ইতোমধ্যে চোখের পানি দুই ফোটা গাল বেয়ে পড়ল। সালাম করে বলল, স্যার আপনি আমার চোখ খুলে দিয়েছেন। ওর মতো একটা পশুর হাত থেকে বাঁচালেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।
২। আর একটি কথা, সব কথা সবার সাথে শেয়ার করতে নেই। এমন কিছু কথা আছে যা জীবনে অঙ্কুরোদ্গমের সুযোগ নেই। আহাম্মকদের (Stupid) সিরিয়াল আছে। স্কুলবেলায় কয়েকজন বন্ধু অসময়ে চুরি করে সিনেমা দেখতে শহরে যেতাম, সিনেমা শেষে ট্রেন পেতে অপেক্ষার সময় কাটাতাম দাঁতের মাজন বিক্রি করা এক হকারের আসরে। তিনি খুব ভালো গান গাইতেন, আধুনিক গানের ১ টা জনপ্রিয় অ্যালবামও বের হয়েছিল তাঁর। তিনি একদিন গানের ফাঁকে বলছিলেন বাস্তবতার উপর ব্যঙ্গ করে করে আহাম্মক (Stupid) নম্বর ১, ২, ৩… ২৩ পর্যন্ত বলেছিলেন দাঁতের মর্যাদা নিতে দাঁতের মাজনের উপকারিতা।
১৪ নম্বরের আহাম্মক (Stupid No-14) সেই, যে বন্ধুর কাছে এমন গোপন কথা বলে … সম্পর্ক খারাপ হলে হাটে হাড়ি…?
ক্লাস এইটে Few, A few, the few এর ব্যবহার শিখতে গিয়ে স্যার উদাহরণ দিয়েছিলেন।
I have few friends যার অর্থ- আমার (প্রকৃত) বন্ধু নেই বললেই চলে।
“ Few relations in the earth never die” = FRIEND
সুতরাং, প্রকৃত বন্ধু কমই হয়।

আপনার মতামত লিখুন :