গরমে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো—
চৈত্র মাস আসতে এখনও বাকি পাঁচদিন। তবে এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চৈত্রের আঁচ টের পাওয়া যাচ্ছে। গরমের সময় অতিরিক্ত কাজের চাপে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। একটুতেই চোখেমুখে দেখা দেয় ক্লান্তির ছাপ। কাজে আসে অনীহা। এসব দূর করতে খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এতে শরীর যেমন চাঙা হবে, তেমনি কাজে মনোনিবেশ করাও সহজ হবে।
গরমে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো— এ সময় শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝড়ে। তাই দিনে কমপক্ষে তিন থেকে চার লিটার পানি পান করতে হবে। সঙ্গে খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে সবজি ও ফল। তরল পানীয়ের পরিবর্তে বিভিন্ন ফলের ঠাণ্ডা জুস ও লেবুর শরবতের বিকল্প নেই। তবে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে বানানো বিভিন্ন শরবতের দিকে দৃষ্টি না দেওয়াই ভালো। সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত কি-না তা দেখতে হবে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে সকালের নাশতায় তেলে ভাজা পরোটা ও সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো। নাশতা হতে হবে অবশ্যই পুষ্টিকর ও ফলযুক্ত। সারাদিনের খাদ্য তালিকা যাই হোক না কেন, সকালের খাবার হতে হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাদ্য তালিকায় যেন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বড়দের ক্ষেত্রে খাবারে কমপক্ষে ৪০০ ক্যালোরির যোগান থাকা উচিত। সকালে বা রাতে যখনই হোক না কেন, দুধ থাকতে পারে খাদ্য তালিকায়। এই গরমে দুধটা ঠাণ্ডা হলে আর তাতে কোনো ফ্লেভার মিশিয়ে খেলে সেটার তো কোনো তুলনাই নেই। নয়তো চলতে পারে হালকা রং চা বা ভেষজ চা।
দুপুরের খাবারে সবজি একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাবার। সেটা তেলে না ভেজে গ্রিল বা বাষ্পে ভাপ দিয়ে নিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সবজি রান্নায় অল্প আঁচ হলে তার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে।
এসব ছাড়াও গরমে খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে দই—সেটা টক দই বা মিষ্টি দই যাই হোক না কেন। বেশি কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পরিহার করার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সয়াবিন তেলের পাশাপাশি অলিভ তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাবার পর ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত বা যেকোনো ফল খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।
রাতে খাদ্য তালিকায় ভারী খাবার না রাখাই ভালো। অনেক রাত করে রাতের খাবার খাওয়া হলে তা শরীরে চাপ সৃষ্টি করে। এতে পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে ডায়রিয়া, বদহজম, বমি বমি ভাব হয়। তাই আগেই রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে গরম দুধ না খাওয়াই ভালো।



