‘প্রেমে পড়লে শীতকালেও গরম গরম লাগে’

GS News 24GS News 24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৫৫ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জলাতঙ্ক রোগী যেমন পানি দেখলে ভয় পায়, তেমনি প্রেমাতঙ্ক রোগী ভয় পায় প্রেমে। বছরের পর বছর আমি ভুগেছি প্রেমাতঙ্কে। ছাত্র জীবনে ৮০% সময় ছেলেমেয়ে পড়ালেখার পিছনে ব্যয় করে। কিন্তু আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারি, ছাত্র জীবনের পুরো সময়-চিন্তা-মেধা ব্যয় করেছি প্রেমের পিছনে।

ওই সময়টাতে আমার গরমের দিনে ফ্যান লাগতো না, প্রেমিকার কথা মনে করলেই হিমহিম ঠান্ডা অনুভব করতাম। শীতের দিনে সবাই যখন সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার পরে ঘোরে, আমি তখন অক্ষয় কুমার, সালমান খানদের মতো শুধু একটা গেঞ্জি পরে ঘুরি।

প্রেমিকার কথা ভাবলেই শরীর উষ্ণ হয়ে যায়। সবাই বলে, ‘এই পোলা পাগল হইয়া গেছে।’ আমি তাদের বুঝাইতে পারি না, ‘প্রেমে পড়লে শীতকালেও গরম গরম লাগে।’

‘After Love, it takes hot in winter’ এই ইংরেজী প্রবাদ কাউরেই বুঝাইতে পারি নাই। এসব দেখে দেখে আমার মা আমারে নিয়া চিন্তায় চিন্তায় অস্থির। একদিন শুনি, ছোট মামার কাছে কেঁদে কেঁদে বলছে, ‘আমার পোলাতো চরম বিপথে চলে গেছেরে ভাই। এলাকায় মুখ দেখাইতে পারি না। আমি যে সন্তান হারা হইয়া গেলাম রে ভাই। তুই কিছু একটা কর!’

অবাক হয়ে মামা জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওর প্যান্টের পকেটে ম্যাচ আর বিড়ির প্যাকেট পাইছেন? তাইলে আপা টেনশন নিয়েন না, এই বয়সে ছেলেপুলে একটু বিড়ি-সিগারেট খায়ই।’

আম্মা চোখ-মুখ নীল কইরা কয়, ‘কী কস তুই এইসব, আমার পোলা এতটা খারাপ হয় নাই!’ মামার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি, ‘তাইলে যে কইলেন, চরম বিপথে গেছে?’ আম্মা আরও সিরিয়াস হয়ে বলেন, ‘হ রে ভাই, অর জানি কী হইছে! গরমের সময় সোয়েটার পইড়া ঘোরে আর শীতের সময় গেঞ্জি!

মামা হাসতে হাসতে বলেন, ‘আরে আপা প্রেমেটেমে পড়ছে মনে হয়।’ আম্মা কয়, ‘আমারও তাই ধারণা। তুই একটু দেখ ভাই। তো ভাইগ্নারে বাঁচা! দরকার হইলে ওর পছন্দের মাইয়ার সাথে ওরে বিয়া দিমু। সবার আগে আমর পোলা।’

মামা এবার চিন্তিত। আমারে ডেকে ভ্রু কুঁচকে কয়, বিশ্ব প্রেমিক হইছো? থাপরাইয়া দাঁত সব ফালাইয়া দিমু! এখন প্রেমে পইরা শীতকালে উদলা ঘোরতাছো, আর কয়দিন পর তো বিড়ি টানবা? প্রেমের নবাব হইতে চাও? তাড়াতাড়ি কইয়া ফালাও মাইয়াউগ্গা কেডা?’ মামারে আমি ক্যামনে বুঝাই নবাব সিরাজউদ্দৌলা যেমন ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন, আমি তেমন প্রেমের যুদ্ধে কুপোকাৎ!

এরপর একদিন সত্যি সত্যি টের পেলাম, আসলেই আমি আর একা নই। হঠাৎ করেই একদিন উদয় হলো মেয়েটি। আমাদের প্রণয় হলো। আমার জীবনে পাল্টাতে থাকলো। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়! আমি আর ছ্যাঁকা খাই না! আমি সিদ্ধান্ত নেই বৃষ্টিকে বলবো, ‘পাখি আমাকে তুমি ছ্যাঁকা দিও না!’

কিন্তু হায়, একি! বৃষ্টিই একদিন আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে, ‘আমাকে ছেড়ে কখনও যাবে না বলো?’ মানুষ পূর্ণিমার চাঁদ হাতে পায়, আমি পেলাম পুরো সৌরজগৎ। আমি বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে বলি, না পাগলি, না..! এ কথা বলো না..। পৃথিবীতে ম্যাসাকার ঘটে গেলে তোমার থেকে আমি আলাদা হবো না।

বৃষ্টি তার সেই ঐতিহাসিক হাসি দেয়। এর কিছুদিন পর আমাদের ফড়িং, পরীকন্যা অবন্তী আসে। সত্যি এখন আর আমি, আমরা একা নই। লাইফ হয় খুব খুব বিউটিফুল..!

আপনার মতামত লিখুন :