খালেদার রায়ে ‘সরকারি ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৪০ এএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার:>>>

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ‘তড়িঘড়ি’ করাকে ‘সরকারি ষড়যন্ত্র’ দাবি করে এর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হবার আহবান জানিয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর গুলশানে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এর আগে আজ শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক এক ঘণ্টা চলার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন ফখরুল। এ সময় তিনি আরো বলেন, এই রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি আজকে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। আমরা মনে করি, এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধবংস করবার জন্যে এবং সকলের অংশগ্রহণে ইনক্লুসিভ ইলেকশন নষ্ট করার জন্য  এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির আজকের সভা থেকে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা দিয়ে সরকারের আইন-আদালতের নিয়মনীতির বিরুদ্ধে আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ গণতান্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহবান জানাচ্ছে।

কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা জানাবো রায় ঘোষণা হবার পরে। পুরো বিষয়টা আমরা আবার জানাবো রায় ঘোষণা হলেই।

তিনি বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি বিশেষ জজ আদালতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য হঠাৎ সমাপ্তি করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের উপস্থিত প্রবীন আইনজীবীদের মতে, এমন ঘটনা শুধু অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত নয়, রহস্যজনক। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও দেশনেত্রীকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার জন্য দ্রুত রায় ঘোষণা সেই অপচেষ্টার অংশ বলেই দেশবাসী মনে করে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে গত কয়েকদিন ধরে সরকারের মন্ত্রীগণ এবং বিশেষ দূত এই মামলার রায় এবং তার সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলার বিষয়ে সরকার ও সরকারি দলের বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা যে ভাষায় বলে চলেছেন তাতে প্রমাণিত হয়- মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও তার রায় কি হবে তা সরকার ও সরকারি দলের জানা আছে বলেই মনে হয়।

এই নেতা বলেন, স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে, জ্বাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন ও বিরোধী পক্ষ থেকে দমন করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার আরেকটি নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এমন আচরণে দেশের জনগণ আজ ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ।

রাত পৌনে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।

আপনার মতামত লিখুন :