জাতীয় ঐক্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার।
স্টাফ রির্পোটারঃ>>>>>>
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের চূড়ান্ত মুহূর্তে জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও টানাপড়েনের খবরে সরকারে আপাত স্বস্তি বিরাজ করছে। বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে গঠিত হওয়া নতুন এ রাজনৈতিক মেরুকরণ খুব বেশি আমলে নিতে রাজি নয় সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। দরকষাকষি আর লেনদেনের হিসাবে শেষ পর্যন্ত এ জোট টিকবে থাকবে কি না সেটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাদের। তবে সরকারবিরোধী এ জোটের কার্যক্রমকে আরো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত এ মোর্চাকে মোকাবেলার কৌশলও নির্ধারণ করা হবে। ঐক্যফ্রন্টের গতিবিধি দেখে সেসব কৌশল প্রয়োগ করা হবে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এসব জোট নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। এ জোটের উদ্যোক্তাদের জনগণের কাছে কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা আবার দেশে-বিদেশের আদালতে স্বীকৃত সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ দল বিএনপির সাথে ঐক্য করেছে। তাদের দাবিগুলোও দেশের আইন ও সংবিধানবিরোধী। এটি তাদেরকে জনগণ থেকে আরো দূরে নিয়ে গেছে। আদর্শহীন ও সুবিধাবাদী নেতাদের এ জোট দেশ ও জনগণের কোনো কল্যাণে আসবে না। জনগণ এ জোটকে আমলে নিচ্ছে না। তবে সন্ত্রাসী দলের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হস্তে দমন করবে। পাশাপাশি জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ এসব ষড়যন্ত্রকারীকে প্রতিরোধ করবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবিকে ষড়যন্ত্রের ইশতেহার হিসেবে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দেউলিয়া কিছু নেতার সাথে গিয়ে বিএনপি ঐক্য করেছে। তারা যে কত বড় দেউলিয়া এর মাধ্যমে তা প্রমাণ হয়ে গেছে। আবার জনবিচ্ছিন্ন কিছু নেতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী দল বিএনপির চুক্তিবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীর দোসর হয়েছে। তাদের মুখোশ জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ আছে। তাই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মতো আগামী নির্বাচনে এই রাজনৈতিক দেউলিয়াদেরও স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’
আওয়ামী লীগ ও সরকারের সূত্রগুলো জানায়, যুক্তফ্রন্টের পর জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া এবং সর্বশেষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন গভীরভাবে মনিটরিং করছিল সরকার। শুরুতে সরকারবিরোধী এ জোটের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সমালোচনা ও চাপের কথা মাথায় রেখে সে অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার। মাঝপথে ঐক্যপ্রক্রিয়ার সাথে বিএনপির যোগ দেয়া নিয়ে টানাপড়েনের খবরে বেশ আশ্বস্ত হন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। আর এখন জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা ড.বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারাকে বাদ দিয়েই গতকাল বিএনপি, গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট ও জেএসডিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট ঘোষণা করা হয়েছে। এতে খানিকটা হাঁফ ছেড়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। ফ্রন্ট ঘোষণার চূড়ান্ত মুহূর্তের অভ্যন্তরীণ এ বিরোধ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
সূত্রগুলো আরো জানায়, সরকারবিরোধী এ জোটকে তেমনভাবে আমলে নেয়া না হলেও তাদের কার্যক্রম গভীরভাবে মনিটর করছে সরকার। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের গতিবিধির ওপর তীক্ষè নজর রাখছেন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। বিভিন্ন সরকারি সংস্থারও কড়া নজরদারি রয়েছে তাদের ওপর। ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি দেখে সরকারের করণীয় ঠিক করা হলেও আপাতত এই ফ্রন্টে সংশ্লিষ্ট জাতীয় নেতাদের কঠোর সমালোচনার দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। এসব নেতাকে জনবিচ্ছিন্ন, ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব এবং পাকিস্তানের দালাল হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা। আর সরকারবিরোধী আন্দোলন জমে উঠলে প্রশাসনিকভাবেও দমন করা হবে তাদের।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দু’জন নেতা গতরাতে আলাপকালে বলেন, ‘বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে জোট। এ জোট কত দিন টিকে সেটি দেখার বিষয়। জামায়াত, আসন বণ্টন ও নেতৃত্ব ইস্যুতে তাদের মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। নিজেদের এ বিভক্তি নিয়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারবে না তারা। তবে আন্দোলনের নামে হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসন বেশ সতর্ক থাকবে।’



