আওয়ামী লীগের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ চেয়ে নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চিঠি।

MD Aminul IslamMD Aminul Islam
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৩২ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৮

স্টাফ রির্পোটারঃ>>>>>>>>

শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সব দলের অংশগ্রহণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ চায় নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এই সংলাপের তাগিদ দিয়ে রোববার সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন।

রোববার রাতে ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ চিঠি হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে চিঠি হস্তান্তর করতে সেখানে যান গণফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিকুল্লাহ এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেসউইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির খান। শেখ হাসিনা ছাড়াও এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকেও আলাদা একটি চিঠি দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ চিঠি দুটি গ্রহণ করার পর সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে দলীয় প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কার্যকরী সদস্য এসএম কামাল।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এক পৃষ্ঠার এই চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেন বলেন, “প্রিয় মহোদয়। শুভেচ্ছা নেবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। যেসব মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে উজ্জীবিত ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছিল- তার অন্যতম হচ্ছে ‘গণতন্ত্র’। গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং জনগণকে শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা করবে- এটাই আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার।”

তিনি বলেন, “আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনকে একটি মহোৎসব মনে করে। ‘ব্যক্তির এক ভোট’র বিধান জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুই নিশ্চিত করেছেন- যা রক্ষা করা আমাদের সবার সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

চিঠিতে ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘ইতিবাচক রাজনীতি একটা জাতিকে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারগুলো আদায়ের মূলশক্তিতে পরিণত করে- তা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন। নেতিবাচক রুগ্ন-রাজনীতি কিভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহাসংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়। এ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো আজ আমাদের জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ দফা দাবি ও ১১ দফার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।’

চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন ড. কামাল হোসেন।

চিঠিতে বতর্মান রাজনৈতিক অবস্থাকে একটি ‘সংকট’ উল্লেখ করে তা থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণার কথা ও  বলেন ড. কামাল।

 

আপনার মতামত লিখুন :