নির্যাতনকারীদের নামের তালিকা করছে বিএনপি
নরসিংদীর পলাশ, ঢাকার দোহার, মাদারীপুরের শিবচরে গতকাল স্থানীয় বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেওয়ার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রমজান মাসে বিরোধী দলের ধর্মীয় অনুষ্ঠান করারও তারা অধিকার রাখছে না। সেখানে অনুষ্ঠান পণ্ড করছে, আক্রমণ করছে, আঘাত করছে, রক্ত ঝরাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, তারা পরে উল্টো বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করছে। নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে পুলিশ ও শাসক দলের ক্যাডাররা। এখন পুলিশ ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন’, বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
বৃহস্পতিবার ভোলার তজিমুদ্দিনে স্থানীয় বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠান পণ্ড এবং বুধবার বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ইফতার অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এবং গুমের খবর। এমনকি সাধারণ মানুষকে হত্যার পর ডাকাত কিংবা সন্ত্রাসী বানিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হচ্ছে। এর পেছনে আবার আর্থিক লেনদেনও থাকে। কোনো একজন ব্যবসায়ীকে বলা হলো টাকা দে, নাহলে কিন্তু বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলা হবে। যখন টাকা দিতে পারছে না, তখন ক্রসফায়ার দেওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দেওয়া হচ্ছে। এই নাটক এতো বেশি মঞ্চস্থ করা হয়েছে যে, বন্দুকযুদ্ধের নাটক জনগণ এখন আর বিশ্বাস করে না। জনগণ মনে করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার জন্য বন্দুকযুদ্ধের এই নাটক প্রচার করা হয়।’
নরসিংদীর জেলা ছাত্রদল নেতা ছিদ্দিকুর রহমান নাহিদ ও তার খালাত ভাই ওয়াজিউল্লাহ লালকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এখনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানান রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



