ফেনীতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে রিন্টু আনোয়ারের প্রতারণার অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি:>>>
ফেনী জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ারের নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় দলীয় নেতা-কর্মীরা ফুঁসে উঠেছে। দীর্ঘদিন দলীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিরুদ্ধে মুখ না খুললেও এবার গণ্যমাধ্যম কর্মীদের কাছে নানা ফিরিস্তি তুলে ধরছেন তারা।
ফেনী জেলা জাতীয়পার্টির আহবায়ক কমিটির ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল আলমগীর জানান, গত কয়েক বছর যাবত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রিন্টু আনোয়ার ফেনী জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। নানা কারনে ফেনী জেলা জাতীয় পার্টিতে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলে রিন্টু আনোয়ারের নেতৃর্তে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আদর্শে লালিত সৈনিকরা জড়ো হতে থাকে। কিন্তুু রিন্টু আনোয়ারের স্বেচ্ছাচারিতা, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারণে একে একে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা পিছু হাটতে শুরু করে।
জেলা জাতীয় পার্টির প্রবীণ নেতা খলিলুর রহমান জানান, সম্প্রতি সময়ে রিন্টু আনোয়ার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নিকট ফেনীর ৩টি আসনে পার্টির তৃণমূল থেকে মনোনীত ৩ জন প্রার্থীর নামের তালিকা প্রেরণ করেন। ০৫ ফেব্রুয়ারী ১৭ ইং তারিখে জেলার আহবায়ক রিন্টু আনোয়ার স্বাক্ষরিত ওই দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক ৪ ফেব্রুয়ারী ফেনীর শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জাতীয় পার্টির সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা এবং জেলার সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, আহবায়ক/সদস্য সচিবদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নের্তৃবৃন্দের প্রকাশ্য মতামতের ভিত্তিতে আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ফেনী-১ আসনে নাজমা আক্তার, ফেনী-২ আসনে খোন্দকার নজরুল ইসলাম ও ফেনী-৩ আসনে আনোয়ারুল কবির (রিন্টু আনোয়ার) কে মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রার্থী নির্বাচিত করা হয় বলে উল্লেখ করে।
প্রকৃত পক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারী ফেনীর কোথাও জাতীয় পার্টির কোন সম্মেলন অথবা মত বিনিময় অনুষ্ঠিত হয় নি। খলিলুর রহমান আরও জানান, ওই দিন ফেনীর সালাম কমিউনিটি সেন্টারের রেজিষ্টার অনুযায়ী একটি বৌভাতের জন্য এটি বরাদ্ধ ছিলো। এমতাবস্থায় কোন রাজনৈতিক দলের ওই স্থানে মতবিনিময়ের কোন সুযোগ ছিলোনা বলে তিনি দাবী করেন। সম্মেলন বা মতবিনিময় না করে জেলার তৃণমূল নেতাদের নাম বিক্রি করে এমন তালিকা চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো সম্পূর্ণ অন্যায় ও প্রতারণার সামিল বলেও মনে করেন খলিলুর রহমান।
এদিকে পার্টির জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজান শাহ আলম জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রায় আড়াই বছর আগে রিন্টু আনোয়ারকে আহবায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি নিয়ে কোন সভা, সম্মেলন অথবা মত বিনিময় না করে রিন্টু আনোয়ার নিজের খেয়াল খুশিমত খোন্দকার নজরুল ইসলামকে সদস্য সচিব হিসেবে ঘোষণা করে, এতে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হতবাক হলেও কেউ মুখ খুলেনি। অবশ্য এটি জাপা চেয়ারম্যানের নির্দেশে করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র রিন্টু আনোয়ারের কাছে আছে বলে তিনি দাবী করেছেন।
জেলা জাপার আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, জেলা জাতীয় পার্টির সকল ধরনের কর্মসূচীতে আমি নেতা-কর্মীদের দাওয়াত দেয়ার দায়িত্ব পালন করি। কিন্তুু রিন্টু আনোয়ারের উল্লেখিত ৪ ফেব্রুয়ারীতে এধরনের কোন সভা/সম্মেলনের কথা আমি জানিনা। ওই দিন মতবিনিময় সভার বিষয়টি রিন্টু আনোয়ারের মিথ্যাচার ও স্বেচ্ছাচারিতার অংশ বলে তিনি দাবী করেন।
দাগনভূঞা এলাকার একাধিক নেতা জানান, গত সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে রিন্টু আনোয়ারকে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তুু নির্বাচনের পর তিনি আর কোন নেতা-কর্মীর খোজ খবর রাখেন নি। যোগাযোগও করেন নি।
এব্যাপারে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক রিন্টু আনোয়ার জানান, আমি দুষ্ট লোক দিয়ে রাজনীতি করতে চাইনা। তাই যারা দুষ্ট ও রাজনীতিকে কুলষিত করতে চায় তাদেরকে আমি বর্জন করে স্বচ্ছতার সাথে ফেনী জাপাকে সংগঠিত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। ফেনীতে একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারী ফেনীতে সকল স্তরের নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় করার পরও যারা এটি নিয়ে মিথ্যাচার করছে তারা পল্লী বন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শত্রু।



