‘বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য’ গড়তে চায় বিএনপি

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২২ এএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

জিএস নিউজ :>>>

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। যারা বর্তমান সরকারের কার্যক্রম ও আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং যারা একাদশ সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে চায়, তাদের নিয়েই ঐক্য হবে। সমমনা এসব দলের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের মতো করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে সকল প্রশ্নে ঐক্য না হলেও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে সামনে এগোচ্ছে বিএনপি। তবে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকারের’ রূপরেখার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পর সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেসব দলের মতবিরোধ সুস্পষ্ট সেসব দলের নেতারা বিএনপিকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের মতো করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সভা-সমাবেশ করবেন। একটি পর্যায়ে বিএনপি যদি কঠোরভাবে মাঠে নামতে পারে, তখন বিএনপিকে সমর্থন জানানো হবে। ওইসব দল বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট না করলেও একই ইস্যুতে রাজপথে যুগপৎআন্দোলনের ডাক দেবে। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে বিএনপির কৌশলের ওপর। বিএনপির পক্ষ থেকে বিকল্পধারা, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য, বাসদ, সিপিবি, বাম মোর্চা, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। তবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপি কোনো যোগাযোগ করবে না বলে জানা গেছে। অবশ্য এরশাদ নিজেও বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধতে আগ্রহী নন।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সরকারকে চাপে রাখতে নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু এখনই প্রকাশ্যে বলা যাবে না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছে। একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি বিএনপি। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফাভাবে করার চেষ্টা করলে ২০ দলীয় জোটসহ জোটের বাইরের দলগুলোকেও আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিএনপির মূল টার্গেট, আগামীতে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে সব রাজনৈতিক দলকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিতেও পারে বিএনপি।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে কি-না, বিরোধী দলকে ছাড় দেবে কি-না, একতরফা নির্বাচন করতে চাইলে বড় দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা কী থাকতে পারে এবং বিএনপির দাবির পক্ষে অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমর্থন জানাবে কি-না ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই হচ্ছে বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ ও এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ছাড়া সব বিরোধী দলের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানো, সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করা, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঠিক করা, নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিসহ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করা, সারাদেশে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের ওপর দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদের চাপ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ নির্মূলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার কোনো গুরুত্ব দেয়নি। বিএনপি সব সময় জনগণের পক্ষে থাকবে। তিনি বলেন, এবার দেশনেত্রী খালেদা জিয়া শিগগিরই নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকারের প্রস্তাব তুলে ধরবেন। এই প্রস্তাবের পক্ষে যেসব রাজনৈতিক দল সমর্থন জানাবে সেসব দলের সঙ্গে বিএনপি যোগাযোগ রাখবে, এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সহায়ক সরকার ছাড়া দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে একতরফা নির্বাচন হবে, এটা দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। তাই এই সরকার যেন আবার একতরফা নির্বাচন করতে না পারে, সে জন্য আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল একটি প্ল্যাটফর্মে এগিয়ে আসুক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, কমন ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। বিএনপি গণমানুষের দল। জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে বিএনপি অভিন্ন ইস্যুতে যথাসময়ে আলোচনা করতে পারে বলে তিনি জানান।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান সমকালকে বলেন, বর্তমান সরকারের আচরণের বিরুদ্ধে যেসব রাজনৈতিক দল সোচ্চার তাদের সঙ্গে কম-বেশি আলোচনা হচ্ছে। গত ৬ মাস আগে থেকেই এই কার্যক্রম চলছে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেওয়ার পর নতুন করে কার্যক্রম শুরু হবে। বিএনপির কী পরিকল্পনা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির দাবির সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল মাঠে থাকবে, তাদের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য না হলেও আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যাতে হয় সেই অভিন্ন দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে সব দল ঐকমত্য হতে পারে। কৌশলগত কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম এখনই প্রকাশ করা যাবে না বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :