‘সারা দুনিয়ায় আমাদের বদনাম ছিল, আমরা গরিব।-অর্থমন্ত্রী
স্টার্ফ রিপোর্টার:
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘সারা দুনিয়ায় আমাদের বদনাম ছিল, আমরা গরিব। আমরা সাহায্যের জন্য হাত পাতি- সে কথা আমাদের শুনতে হয়েছে। আজ আমি খুব গৌরব বোধ করছি। আমরা এই পর্যায় থেকে অতিক্রান্ত হয়েছি। ’
বুধবার সচিবালয়ে ‘স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এখন বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী এ বিষয়ে মুহিত বলেন, এলডিসি থেকে উত্তোরণের পর মানসিকতার পরিবর্তনকেই বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি করি। সামনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা এলডিসি থাকব। ২০১৮-২০২৪ সাল পর্যন্ত একটা ট্রানজিশনে(রুপান্তর) থাকব। আমাদের মানসিকতাও পরিবর্তন করতে হবে। বেশি হারে আন্তর্জাতিক ঋণ নেওয়ার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। মানসিকতার পরিবর্তনে ইতোমধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। কোন খাতে কত ঋণ নেব, সে বিষয়ে সাবধান হতে হবে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) গত ১৬ মার্চ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি দেয়। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ারশর্ত পূরণ করায় বাংলাদেশ এখন আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারবে। সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কাল(আজ) থেকে এই প্রাপ্তির উদযাপন কাজ শুরু হবে। সকলে মিলে আমরা এই গৌরবের অংশীদার হবো। বাংলাদেশ কেবল আবেদন করার যোগ্য হয়েছে, এখনও অনেক পথ বাকি; তারপরও উদযাপনের এত আয়োজন কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেন নয়? আমরা অনেক নিচে ছিলাম, আমরা উপরে উঠছি এখন, আরও উপরে যাব। আমরা দেখিয়েছি আমরাও পারি। আমরা উৎসবপ্রিয় জাতি। তাই সবাইকে নিয়ে উদযাপন করব।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি বাংলাদেশকে জাতিসংঘ জানায় ১৬ মার্চ। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ মিশনকে সেদিন ওই স্বীকৃতিপত্র হস্তান্তর করা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, ওই স্বীকৃতিপত্র মঙ্গলবার দেশে এসেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তা হস্তান্তর করা হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই স্বীকৃতির উদযাপন হবে ৭ দিন ধরে। ২০ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ উৎসব চলবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হবে সংবর্ধনা। বিকালে রাজধানীর নয়টি অঞ্চল থেকে শোভাযাত্রা যাবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। এতে যোগ দিবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এখানে হ হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওই সপ্তাহে সরকারের সব দপ্তর বা বিভাগ একটি সেবা ফ্রি দেবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশের জন্য দুই চারটি ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হলেও অনেক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। বিনিয়োগ, পুঁজিবাজার, জিএসপিসহ নতুন নতুন অনেক ক্ষেত্রে দরজা খুলে যাবে। মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন,“রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ইআরডি সচিব শফিকুল আজম ও অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মাথাপিছু আয়, মানবোন্নয়ন সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পর পর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের আবেদন পর্যালোচনা করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।
একটি দেশের মাথাপিছু আয় কমপক্ষে ১২৩০ ডলার, মানবোন্নয়ন সূচকে স্কোর ৬৬ বা তার বেশি এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ৩২ বা তার কম হলে সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির যোগ্য বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১২৭১ ডলার, মানবোন্নয়ন সূচকের স্কোর ৭২.৯ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ২৪.৮ হওয়ায় বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি পেয়েছে।
১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তভূক্তির পর বাংলাদেশ এবারই প্রথম তিনটি সূচকে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে সক্ষম হয়েছে। ২০২১ সালে সিডিপির ত্রি-বার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ যদি আবারও এ মানদন্ডগুলোর কমপক্ষে দুটি পূরণ করতে পারে, সিডিপি তখন বাংলাদেশের উত্তরণের জন্য সুপারিশ করবে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল তা অনুমোদন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠাবে। তিন বছর পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তখন সত্যিকার অর্থে পরিণত হবে উন্নয়নশীর দেশে।



