হজ ফ্লাইটে সৌদি এয়ারলাইন্স নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা
স্টাফ রিপোর্টার:>>>
জের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মানছে না বাংলাদেশ থেকে অর্ধেক হজযাত্রী বহনকারী সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স বা সাউদিয়া। এর ফলে হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হওয়ায় সমস্যাটির সমাধানে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। বিষয়টি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়াত্ত এয়ারলাইন্সকে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এবার সৌদি সরকারকেও এ ব্যাপারে অবহিত করবে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের হজ যাত্রীদের বিমানভাড়া চূড়ান্ত করা ছাড়াও হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ করার বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবারের হজ চুক্তিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হজযাত্রীদের জন্য ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা-ঢাকা রুটে বিমান ভাড়া চূড়ান্ত করার সময় হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে গত ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে, ২০১৮ সালের হজে শুধুমাত্র হজ এজেন্সিগুলোকে টিকিট দেওয়া এবং হজ এজেন্সিকে ৩০০-এর বেশি টিকিট না দেওয়া সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মেনে না চলায় বিষয়টি সৌদি সরকারকে অবহিত করা। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স যেভাবে টু ওয়ে বোর্ডিং কার্ড দেয়, ঠিক একই পদ্ধতি ২০১৯ সালের হজে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও অনুসরণ করবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে হওয়া হজ চুক্তি-২০১৯ এর ওপর আলোচনা এবং চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। ২০১৮ সালের হজে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত হজ এজেন্সির তালিকা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এছাড়াও ২০১৯ সালের হজে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি বন্ধ করা এবং প্রি-হজ সিডিউলে সরকারিভাবে হাজি পরিবহনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সৌদি এয়ারলাইন্সটি যে নিয়ম বা নির্দেশনাগুলো মানছে না তা আগে সৌদি সরকারকে জানানো হয়েছিল কিনা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিয়েছিল কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘অতীত অতীতই। এখন এ বিষয়টি এবারের হজ চুক্তিতেও যুক্ত করা হয়েছে। আর তাদের ব্যবসা করতে হলে আমাদের নিয়ম-কানুন মেনেই ব্যবসা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।’
সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স সরকারের কী কী নির্দেশনা মানছে না তা জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) মো. মোকাব্বির হোসেন সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ধর্ম ও হজ এজেন্সিগুলো থেকে আমরা বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে জেনেছি। সৌদি সরকারকে এ বিষয়গুলো অবহিত করবো।’
এবার যাত্রীপ্রতি হজের বিমান ভাড়া কমিয়ে এক লাখ ২৮ হাজার টাকা করা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ১০ হাজার ১৯১ টাকা কম। গত বছর যাত্রীপ্রতি হজের বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা। গত ১৭ জানুয়ারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সবার বক্তব্য শুনেছি। সবার প্রচেষ্টায় আমরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে কাজ করছি।
ওইসময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা।
সভায় অন্যান্যবারের সমস্যাগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা সভায় বলেন, হজ প্যাকেজ (২০১৮) অনুযায়ী এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী মোট হজ যাত্রীর ৫০ ভাগ অর্থাৎ ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজ যাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং অবশিষ্ট ৫০ ভাগ অর্থাৎ ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজ যাত্রী সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সে পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ছিল। সে লক্ষ্যে বিমান এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই থেকে প্রি-হজ ফ্লাইট (হজে যাওয়ার ফ্লাইট) শুরু করে এবং উভয় এয়ারলাইন্স গত ১৫ আগস্ট প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ করে। প্রি-হজে বিমান ৬২ হাজার ৭৯৬ জন এবং সৌদিয়া ৬৪ হাজার ৪৮৩ জন হজযাত্রী পরিবহন করে। উভয় এয়ারলাইন্স এক লাখ ২৭ হাজার ২৭৯ জন হজ যাত্রী পরিবহন করে। প্রি হজে বিমান ১৬৭টি ফ্লাইট ( ডেডিকেটেড ১৩৫টি ও সিডিউল ৩২টি) পরিচালনা করে।
সূত্র জানায়, টিকিট বিক্রিতে সরকারের নির্দেশনা না মানার বিষয়ে সভায় সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধির কাছে জানতে চান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তখন ওই এয়ারলাইন্স প্রতিনিধি তাদের জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের হজে তাদের জন্য নির্ধারিত হজ যাত্রীর সকলকে যেন তারা পরিবহন করতে পারেন তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আর ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সারা বছরের ব্যবসার ওপর লক্ষ্য রেখে গুরুত্বপূর্ণ ৫০টির মতো এজেন্সির কাছে তারা হজের জন্য টিকিট বিক্রি করেছেন।



