বিবেক জাগানো মদিনার চিঠি

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:১৫ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬

হজরত আবু উবাইদ লিখলেন, ‘আমিরুল মুমিনিন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। প্রথমত আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না?খলিফা হজরত উমর রা.। অর্ধপৃথিবীর রাষ্ট্রপ্রধান। তার শাসন আমলের কথা, ঈদের আগের দিন হজরত ওমরের বিবি বললেন, ওগো অর্ধপৃথিবীর বাদশাহ, আমাদের জন্য ঈদের নতুন জামা-কাপড়ের প্রয়োজন নেই। কোলের বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে। খলিফা বললেন, হে বিবি, নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য আমার নেই। নেই পয়সার জোগার । খলিফার বিবি বলল, রাষ্ট্রিয় কোষাগার থেকে আগামী মাসের পারিশ্রমিকটা অগ্রিম নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না? কোষাগারের দায়িত্বে হজরত আবু ওবায়দা রা.। হজরত ওমরের পত্র পেলেন তিনি। পত্রে জানালেন, এক মাসের অগ্রিম বেতন প্রয়োজন। মুসলিম জাহানের খলিফা ওমর। পয়সার অভাবে আমার কাছে পত্র লিখেছেন। কথাগুলো ভাবছেন আবু উবাইদা। কাঁদছেন আবু উবাইদা। চোখে পানি টলমল। হজরত আবু উবাইদা রা. পত্রবাহক টাকা দেয়নি। দিয়েছেন হজরত ওমর রা.কে বিবেক জাগানো চিঠি।
দ্বিতীয়ত্ব, বেঁচে থাকলেও মুসলমানরা আপনাকে রাষ্ট্রের প্রধান বহাল রাখবে কিনা? চিঠি পেয়ে কেঁদেছেন হজরত উমর। চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজিয়েছেন। হাত তুলে দোয়া করলেন, ওগো আল্লাহ, আবু উবাইদার উপর দয়া কর, তাঁকে হায়াত দাও।
হজরত ওমর রা.-এর আরও একটা গল্প বলি। তিনি খুব অসুস্থ্য। মাছ খাওয়ার খুব ইচ্ছা জেগেছে। মাছ পাওয়া যায়নি মদিনায়। বেশ পরে পাওয়া গেল। কিনলেন দের দেরহামের বিনিমিয়। রান্না শেষে একটি রুটি আর মাছ পরিবেশন করলেন হজরত ওমরের সামনে। ঠিক তখনই ভিক্ষুক এসে হাজির হলেন, বাদশাহ ওমরের দরবারে। অসুস্থ্য ওমর বললেন, খাবারটা ফকিরকে দিয়ে দাও। খাদেম আরজ করলেন, দিন মাছ খেতে চাচ্ছেন। এতো কিছুর পর পেলাম। আপনি বরং খেয়ে ফেলেন। আর ভিক্ষুক কে কিছু টাকা দিয়ে দিই। হজরত ওমর অনড়। না, মাছ রুটির তাকে দিয়ে দাও। খাদেম ভিক্ষুক থেকে কিনে এনে আবার পেশ করলেন, হজরত ওমরের দস্তরখানে। ওমর বললেন, টাকা ফেরত নিবে না, খাবার টাও তাকে দিয়ে দাও।
গল্প নয় সত্তি, মিথ্যে নয় এক রত্তি। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের হজরত ওমরের সংসার। তার কাছে একজন ভিক্ষুকের নিরাপদ অধিকার। সভ্যতা সংস্কৃতি ও আদর্শের জন্য মদিনার নবী হজরত মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপমা। বন্ধু, প্রতিপক্ষ বা কাছের কেউ নয়, পথচারী একজন ভিক্ষুকও তার কাছে সম্মানের দাবি রাখে। রুটি টানাটানির সভ্যতা নয়। ত্যাগ ও ইনসাফের চিরকালীন উপমা হজরত ওমর।

আপনার মতামত লিখুন :