নানা অনিয়মে জর্জরিত চট্টগ্রাম বিমানবন্দর নজর নেই কর্তৃপক্ষের
চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ>>>>>
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস ও সিভিল এভিয়েশন সহ কর্তৃপক্ষের কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বিমানবন্দর দিয়ে আসা এবং বিদেশগামী রেমিটেন্স অর্জনকারী শ্রমিকসহ সাধারণ প্রবাসীরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শাহ আমানতে যাত্রী হয়রানি, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এর আগেও অনেকবার উঠেছে। বিমানবন্দরের এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে আগে অনেক লেখালেখি হলেও অবস্থার লক্ষণীয় কোন পরিবর্তন ঘটেনি। টিআইবি সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য হাজির করে আবারো আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হওয়া জরুরি।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে টিআইবি একটি গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে কমপক্ষে ৯ খাতে যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় এবং নিয়মবহির্ভূত অর্থও দিতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিরাপত্তা প্রহরীরা নানাভাবে যাত্রীদের টাকা পয়সার জন্য হয়রানি করে। প্রায়ই মালামাল লুকিয়ে রেখে ৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বখশিশ আদায় করা হচ্ছে। বহির্গমন কার্ড পূরণের জন্য যাত্রী বিশেষত প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিচ্ছেন সিভিল অ্যাভিয়েশন, ইমিগ্রেশন বিভাগ ও এয়ারলাইনসে কর্মরতরা। ভিজিট ভিসার মাধ্যমে যারা মধ্যপ্রাচ্যে যান তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। ভিসার মেয়াদ কম, ছবি ঠিক নেই এসব অজুহাতেও প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
একটি দেশের প্রবেশদ্বার সে দেশের বিমানবন্দর। চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দেশের দ্বিতীয় প্রধান বিমানবন্দর। এই বন্দরের হাল যদি এই হয় তাতে হতাশ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই বিমান বন্দরের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার পরও যাত্রী ভোগান্তি, হয়রানি ও বিশৃঙ্খল অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আগামী দশক শেষে মধ্য আয়ের দেশ অথবা ডিজিটাল বাংলাদেশ জাতির সামনে উন্নয়নের যে রূপরেখাই দেখানো হোক, বিমান বন্দরে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে তা সম্ভব নয়। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিমানবন্দরের ভেতর-বাইরের নিরাপত্তা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে ১৩ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন টিআইবি। টিআইবির সুপারিশ অবশ্যই বিবেচনায় নিয়ে তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে।
সুত্রঃ ভোরের কাগজ



