রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ,ক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ
বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারাদেশ। গতকাল রোববার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকরা পৃথক বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদ সমাবেশ :জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সারাদেশে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ও জোটের সহসভাপতি ড. মুহম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, গণসঙ্গীতশিল্পী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী মনিরুজ্জামান, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ গিয়াস প্রমুখ।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দেশে আজও একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। আজ জাফর ইকবালের ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। এমন হামলা যে কারোর ওপরই আসতে পারে। তিনি বলেন, এদের শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রতিহত করা সম্ভব নয়। সবার সমন্বয়ে সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
মামুনুর রশীদ বলেন, জাফর ইকবালের ওপর হামলা মানে স্বাধীনতার ওপর হামলা। তার শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া মানে দেশের সব মানুষের শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, জাফর ইকবাল যখন হামলার শিকার, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা নানা বাজে কথা লিখছেন। আজ কোথায় ডিজিটাল আইন, সরকার কি এসব দেখছে না? তিনি বলেন, ৩২ ধারা কি শুধু সাংবাদিকদের জন্য? যারা এসব কমেন্ট লিখছে, তাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ :যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণের মঞ্চের অন্যতম উপদেষ্টা মুহম্মদ জাফর ইকবালের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ ও এর সমমনা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ঘুরে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে মানববন্ধন এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় একযোগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে।
সমাবেশে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার বিচার না হলে আরও অনেক হত্যাচেষ্টা ও হত্যাকাণ্ড দেখতে হবে। এর দায় রাষ্ট্র কোনোভাবে এড়াতে পারে না।
বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজের সমাবেশ :গতকাল বিকেলে একই সময়ে শাহবাগে ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আরেকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গণজাগরণ মঞ্চের অন্য অংশের নেতাদের দেখা যায়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, জাফর ইকবাল মুক্তবুদ্ধির চর্চার অনিবার্য প্রতীক। এমন একজন মানবিক মানুষের ওপর আক্রমণ করা হলো, যিনি রক্তাক্ত অবস্থায়ও বলছেন, হামলাকারীর যেন কোনো ক্ষতি করা না হয়। এমন হৃদয়ের মানুষ জাফর ইকবাল। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে একাত্তরের গেরিলা যোদ্ধা জহির উদ্দিন ওরফে বিচ্ছু জালাল, প্রজন্ম ‘৭১-এর তৌহিদ রেজা নূর, গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী ও এফ এম শাহীন বক্তব্য দেন। এ ছাড়া হামলার প্রতিবাদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরাও একটি মানববন্ধন করেছেন শাহবাগে।
বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতি ও মানববন্ধন :জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি হামলাকারীদের শাস্তি এবং জাফর ইকবালের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতপ্রধান আহমদ শফী খোলা চিঠিতে জাফর ইকবালসহ মুক্তচিন্তার লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের ‘নাস্তিক ও মুরতাদ’ ঘোষণা করলেও তাদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দেশের ৪৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদের সই করা বিবৃতিতে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পুলিশের সামনে একজন শিক্ষাবিদের ওপর এ হামলা দেশের মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা তুলে ধরেছে।
এ ছাড়া নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির ফয়সল, খেলাফত মজলিসের আমির মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক), বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এডাব, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের আহ্বায়ক শীপা হাফিজা, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার জসীম, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, প্রগতিশীল ছাত্র জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ এবং জাতীয় ছাত্র ও যুব ঐক্যের ব্যনারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময় মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্র ও যুব ঐক্য নামে অপর একটি সংগঠন।
দোষীদের বিচার দাবি জাবি শিক্ষকদের :জাবি প্রতিনিধি জানান, জাফর ইকবালের ওপর হামলার নিন্দা, প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকরা। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শেখ মো. মনজুরুল হক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ, অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, অধ্যাপক মো. শামছুল আলম সেলিম প্রমুখ। একই দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ। এতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ অন্যরা।
জবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন :জবি প্রতিবেদক জানান, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি। স?মি?তির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ? কে এম ম?নিরুজ্জামানের সভাপ?তি?ত্বে এতে বক্তব্য দেন জ?বি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ।
ঢাকার বাইরে সমকালের ব্যুরো, আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও খবর :
সিলেট :প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে বিকেল ৫টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শাবির সাবেক ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে বিকেলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন হয়। হামলার প্রতিবাদে মিছিল হয়েছে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতেও। সকালে শাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে দফায় দফায় মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া হামলার প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন তারা। বেলা ১১টার দিকে গ্রন্থাগার ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ও শাবি শিক্ষক সমিতি। শাবি গেটে সমাবেশ ছাড়াও ভেতরে শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। সন্ধ্যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করা হয়।
চট্টগ্রাম :হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরের সামনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতি। হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে আজ সোমবার এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনেরও ঘোষণা দেন তারা। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন চবি ছাত্রলীগ, প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাংবাদিক সমিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দোষীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব-শিক্ষক-সংস্কৃতি ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বিকেলে নগরের চেরাগী পাহাড় চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তারা এ দাবি জানান।
খুলনা :খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া এক বিবৃতিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ফায়েক উজ্জামান হামলার নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অপর এক বিবৃতিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য মুহাম্মদ আলমগীর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রংপুর :দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন রণন, গুনগুন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ মানববন্ধন-সমাবেশ করে। প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ একই দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশে করে। এরপর কবি হেয়াদ মামুদ ভবনের পাশে কদমতলায় বইপড়া কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা বিভিন্ন বইয়ের অংশবিশেষ পড়ে তার ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়।
বরিশাল :মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ, নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে বরিশালের ২৭টি সংগঠনের জোট সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কবিতা পরিষদ বরিশাল শাখা, প্রগতি লেখক সংঘ, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বরিশাল আঞ্চলিক শাখা।
রাজশাহী :বিকেল ৫টায় নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এতে বক্তব্য দেন সদর আসনের সাংসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, ভাষাসংগ্রামী আবুল হোসেন, মহিলা পরিষদ নেত্রী কল্পনা রায়, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার, রাজশাহী শিক্ষক সমিতির সভাপতি রাজ কুমার সরকার প্রমুখ।
রাজশাহী :দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এতে বক্তব্য দেন নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকর, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক সুখন সরকার, জোটের সাবেক সভাপতি আবদুল মজিদ অন্তর প্রমুখ। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ ছাড়া মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন লিনার্ক।
ময়মনসিংহ :বিকেলে শহরের ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন ও মহিলা পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এতে বক্তব্য দেন জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, সাধারণ সম্পাদক শেখ বাহার মজুমদার, মহিলা পরিষদ নেতা ফেরদৌস আরা মাহমুদা হেলেন, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু, মনিরা বেগম অনু প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ :দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন করেছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা সিপিবির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঈশতিয়াক শামীম, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি রাজু আহমেদ, সুহৃদ সংগঠক আলাউর রহমান, আহমেদ মামুন প্রমুখ। বিকেলে জেলা উদীচী মানববন্ধন করে।
এদিকে বগুড়া, দিানজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, বরগুনা, পাবনার ঈশ্বরদী, নেত্রকোনার কেন্দুয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে।



