মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে গড়ে উঠেছে ‘মায়াবন’।

GS News 24GS News 24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১০ এএম, ০৭ মার্চ ২০১৮

নান্দাইল ভূমি কার্যালয়। একসময় আবর্জনা ফেলা হতো। দুর্গন্ধে টেকা যেত না। সহকারী কমিশনার তামিম গড়ে তোলেন সবুজের আবহ।

জমিসংক্রান্ত কাজে ভূমি কার্যালয়ে আসেন মানুষ। কিন্তু এখানে এসে বসার স্থান না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই ভোগান্তি থেকে মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে গড়ে উঠেছে ‘মায়াবন’। এটি তৈরি করেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা ভূমি কার্যালয়।

উপজেলা ভূমি কার্যালয় এবং এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের যেখানে মায়াবন গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে আগে ছিল গর্ত। পৌরসভার আবর্জনা ফেলা হতো সেখানে। এ ছাড়া বাইরে থেকে লোকজন এসে এখানে শৌচকর্ম সারত। আবর্জনা ও বর্জ্যের দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ত কার্যালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের। ২০১৬ সালে এই কার্যালয়ে যোগ দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তামিম আল ইয়ামীন। তিনি উদ্যোগী হয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করান। কার্যালয়ের চারপাশে সীমানাদেয়াল তোলেন। তিনি পেশাদার উদ্যানবিদকে দিয়ে একটি নকশাও প্রণয়ন করেন। পরে আবর্জনা ফেলার স্থানটিতে গাছ লাগিয়ে সবুজ উদ্যান গড়ে তোলা হয়। সেখানে বসার ব্যবস্থা করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় মায়াবন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তামিম আল ইয়ামীন পদোন্নতি পেয়ে অন্য জায়গায় বদলি হন। তিনি এখন জামালপুরের মেলান্দহের ইউএনও। তামিম আল ইয়ামীন গত শুক্রবার মুঠোফোনে বলেন, তিনি নান্দাইলে যোগ দেওয়ার পর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধার মুখেও বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করেন। পরে একজন উদ্যানবিদের সহায়তা নিয়ে নকশা প্রণয়ন করে মায়াবন গড়ে তোলেন। গত বছর জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান এটি উদ্বোধন করেন।

মায়াবনে সব সময় আসেন এমন চারজন কলেজছাত্রী বলেন, একসময় আবর্জনা ও মলমূত্রের দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হতো। কিন্তু একজন কর্মকর্তা এই স্থানকে বদলে দিয়েছেন। তিনি জায়গাটিকে ফুলের বাগানে রূপান্তর করেছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মায়াবনের ভেতরের চারপাশজুড়ে রয়েছে হাঁটার পথ। ফটক খোলা থাকলে লোকজন সকাল-বিকেল সেখানে হাঁটাহাঁটি করেন। ভেতরে রয়েছে বসার স্থান। জমি-জিরাতের কাজ নিয়ে দূর থেকে আসা মানুষ এখানে বসে বিশ্রাম নেন। আগত লোকজন ও কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভূমি কার্যালয়ে বসার কোনো স্থান ছিল না। এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষ পাকা বেঞ্চে বসে বিশ্রাম নেন। তাঁরা মায়াবনের সৌন্দর্য অবলোকন করছেন এবং সময় পার করছেন।

বর্তমানে মায়াবন পরিচর্যা করছেন সম্প্রতি যোগ দেওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার। তিনি সেখানে শীতকালীন ফুল গাছ লাগিয়েছেন। সবুজ ও সতেজতা ঠিক রাখতে পানি সেচের ব্যবস্থা করছেন। ছুটির দিনেও মাহমুদাকে মায়াবন পরিচর্যা করতে দেখা যায়। রাতে মায়াবনে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইটপাথরের আড়ালে মায়াবনে একটু সবুজের আবহ মানুষকে প্রশান্তি দিচ্ছে।

জানতে চাইলে মাহমুদা আক্তার গত শুক্রবার বলেন, সুন্দর পরিবেশে সেবাগ্রহীতারা বসে যেন সেবা নিতে পারেন, এই উদ্দেশ্যে মায়াবন গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়া ভূমির সমস্যা নিয়ে সাপ্তাহিক শুনানি হয় প্রতি বুধবার। ওই সময় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে জড়ো হন। এসব মানুষ এখানে এসে মায়াবনে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন।

ইউএনও মো. হাফিজুর রহমান বলেন, একটা সময় ভূমি কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের জন্য বসার জায়গা ছিল না। এখন তাঁরা এখানে বিশ্রাম নিয়ে সেবা নিতে পারেন। এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ।

আপনার মতামত লিখুন :