ফেনীতে লাগাতার ২০ কিলোমিটার যানজট

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৪ এএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

শাহজালাল রতন, ফেনী থেকে:>>>

চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। নতুন পথ চলতে চলতে প্রতিটি যাত্রীর মন ভ্রমণের আনন্দে নেচে ওঠে। কিন্তু ফেনী পার হতে গিয়ে যাত্রীদের ছন্দপতন ঘটে। থমকে দাঁড়াতে হয় সব পরিবহনকে। চার লেনের মহাসড়কটি ফেনীর ফতেহপুর রেলওয়ের ওভারপাস এলাকায় পরিণত হয়ে যায় এক লেনে। এখানে প্রতিদিনই লাগাতার যানজট। এই জট পার হতে প্রতিটি পরিবহনকে কমপক্ষে ৪-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সময়মতো অ্যাপ্রোচ সড়ক এবং মাত্র পাঁচশ’ গজ রেলের ওভারপাস নির্মাণ না করায় এই এলাকায় দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথে সার্বক্ষণিক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় যানজটের কারণে ফেনী-কুমিল্লা আন্তঃজেলা রুটে দুটি পরিবহন সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর রেল ওভারপাস এলাকায় শনি ও রোববার সরেজমিনে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। বেলা ১১টায় দেখা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাস ও ট্রাক ফতেহপুর থেকে চৌদ্দগ্রামের বাতিশা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে পড়ে। আবার ঢাকা ও নোয়াখালীমুখী বাস-ট্রাক লেমুয়া ব্রিজ পর্যন্ত রয়েছে। দুই প্রান্তে সবসময় প্রায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে।

 

ট্রাকমালিক সমিতির সভাপতি গোলাম নবী জানান, নিয়ম হচ্ছে ওভারপাস নির্মাণকাজ শুরুর আগেই চলাচলের জন্য অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা। সময়মতো অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ না হওয়ায় লাগাতার যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রোববার সরেজমিন দেখা যায়, অ্যাপ্রোচ রোড ও ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে। ফেনী-কুমিল্লা আন্তঃজেলা মদিনা ও যমুনা বাস সার্ভিস নেতারা জানান, ফেনী-কুমিল্লার মধ্যে চলাচলকারী বাস গন্তব্যে পৌঁছাতে ২ ঘণ্টা সময় লাগত। কিন্তু এখন অতিরিক্ত ৪-৫ ঘণ্টা লাগে গন্তব্যে পৌঁছাতে। এ অবস্থায় লোকসানের ভয়ে তারা সার্ভিস বন্ধ করে রেখেছেন। ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের চালক সোলেমান জানান, তিনি সাড়ে চার ঘণ্টা পর যানজট পার হয়েছেন।

 

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণকাজ ২০১২ সালে শুরু হয়। নির্মাণকাজ শুরুর পর ফেনীতে চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে বারবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়া যায়, স্থানীয় একশ্রেণির সন্ত্রাসী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে অফিসে বোমা হামলা, ভাংচুর ও কোম্পানির প্রকৌশলীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। সড়ক বিভাগ একপর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুনরায় ওভারপাস সড়ক নির্মাণ শুরু হয়।

 

 

রোববার সকালে ফেনী বিসিক এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে থাকা ফেনীর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ফারুক জানান, ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণকাজের শুরু থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এ স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে পণ্যবাহী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেল রুটে দিন ও রাতে শতাধিক ট্রেন চলাচল করে থাকে। আবার ওভারপাসের নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করা হয়। এ অবস্থায় দিনরাতে শতাধিতবার ফতেহপুর রেলগেট বন্ধ রাখতে হয়। আবার অন্যদিকে সড়কের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণকাজ এখনও শেষ হয়নি। অ্যাপ্রোচ রোড়ে বৃষ্টির পানিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় লাগাতার যানজট চলছে।

 

পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, ফতেহপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিরসনে অতিরিক্ত দুই শতাধিক পুলিশকে মহাসড়কে মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জানান, পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মে-জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এ সড়কে যানচলাচল শুরু হলে যানজটের পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

 

এদিকে চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :