আমাদের মানসিকতায় জেঁকে বসেছে বাড়িয়ে কথা বলা

জিএস নিউজজিএস নিউজ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১০ এএম, ০৮ জুলাই ২০১৮

জিএস ডেস্ক:>>>

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক তরুণী কানাডা একটি এলাকা থেকে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। ধরে নেওয়া যায় যে, তিনি প্রাদেশিক বা ফেডারেল আইন সভার সদস্য হিসাবে আসন গ্রহণ করা হবে। এটি একটি সম্মানজনক কৃতিত্বের সন্দেহ নেই। আমাদের পত্র-পত্রিকার সংবাদে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশী যুবক কানাডা জয়। আমার মনে আছে, পত্র-পত্রিকা একটু বাড়িয়ে বলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ইত্যাদি দেশগুলোতে যাত্রা জমায়া তারা সেসব দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। তাদের ছেলে মেয়েরা এই দেশের নাগরিক হিসাবে বেড়ে ওঠে। যারা নতুন দেশ জন্মগ্রহণ করে তারা জন্ম সূত্রে নতুন দেশ নাগরিক হয়। নাগরিকদের জন্য তাদের আলাদাভাবে চেষ্টা তদবির করতে হয় না।

এমপ্লয়মেন্ট গ্রহণকারী নতুন নাগরিকদের সন্তানরা উন্নত দেশে পরিবেশে বড় হয় তারা তাদের স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অনেকের পারফরমেন্স উল্লেখযোগ্য। পাশ করার পরে তারা ভাল অবস্থানে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। নিজের পেশায় কেউ কেউ বিশেষ কৃতিত্বের পরিচিতি দেয়। রাজনীতিতে যোগদানকারীদের মধ্যে কেউ কেউ জনগণের ভোটে সু-উচ্চ পদে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণী তাদের একজন অন্যান্য দেশের প্রজাপতির জন্য তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি সত্য এখানে আসলে কানাডা জয়ী কিছু ঘটেনি। আমাদের দেশে অনেক তরুণ-তরুণী গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন নির্বাচন বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত হয়। তখন মফস্বল জেলার লোকজন বলে না যে তাদের জেলার বাসিন্দা ঢাকা জয় করে ফেলেছে। এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রায় সব জেলার তরুণ-তরুণীদের কৃতিত্বপূর্ণ কাজ করা হয়।

আমরা আবেগপ্রবণ হয়ে প্রায়ই বলি যে, আমাদের দেশ মাটি সব চেয়ে উর্বর। এখানে চাষাবাদ বেশি প্রয়োজন হয় না, বীজ ছড়িয়ে দেওয়া হলে ফসল ফলে কথা বলা আংশিক সত্য। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, আমাদের মাটি উর্বরতা গড় মানের। এ মাটি ফসল ফলনে উপযুক্ত সন্দেহ নেই। তবে এর চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ মাটি পৃথিবীর অনেক দেশে রয়েছে আমাদের মাটি উর্বরতা সহায়ক কোন উপাদান কীরূপ খনিতে আছে তাও এলাকা ভিত্তিক জরিপ করা হয়েছে খুঁজে বের করা হয়েছে। বাড়তি কথা না বলা

আজকাল মাঝে মাঝে পত্রিকায় দেখা যায়, এই পণ্য উৎপাদনে আমাদের পৃথিবী দ্বিতীয় স্থান এলে, উৎপাদিত পণ্যটি চতুর্থ স্থানে আখি। এই পণ্যগুলি সিংহভাগ আমদানিকৃত। যদি আমাদের উৎপাদন এত বেশি হয়, তবে প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি করা উচিত কেন? আর গ্রাহকই কেন আমদানিকৃত পণ্য প্রতি এত ঝুঁকি আছে?

আমরা মাঝে মধ্যে পত্র পত্রিকায় দেখেছি যে দাবি উত্থাপিত হয় দূরবর্তী জেলার কোন এলাকা পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করা হবে। সেখানে একটি তিল রয়েছে, পাশে একটি ছোট কৃত্রিম বনভূমি রয়েছে। আর জেলা পরিষদের একটি ডাক-বংগল রয়েছে। এ জওর গালে বলা হচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সৌন্দর্য লালাভূমি। বর্তমানে এখানে এলাকার বাইরে লোকজন এটি একটি আসেনা। প্রতিবেদক আশা করা ভ্রমণের কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে এখানে পর্যটক ঢাল নাম্বার। ভালভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, আসলে সে রকম কোন সম্ভাবনা নেই। আমরা অল্প কিছু বলার পছন্দ করি, এই যা।

আমি মাঝে মাঝে প্রতি গ্রামে স্কুল দেয়ার কথা বলি, প্রতি পরিবারে চাকরি দেয়ার কথা বলি। এটা আসলে সম্ভব নয়, কারণ অনেক গ্রাম আছে যেখানে লোকসংখ্যা ১০০ এর কম, এই গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী শিশু সংখ্যা ১৮ জন কম। এত কম শিশুর জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যুক্তিযুক্ত হবে না সেদিন সংবাদ কাগজে দেখেছি পটুয়াখালীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেবল সাতজন ছাত্রদের জন্য তিনজন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এ অবস্থা চলতে পারে না স্কুল বন্ধ হবে। আমাদের বলা উচিত, যে সমস্ত গ্রামে স্কুলে যাওয়া উপযুক্ত কিছু সংখ্যক শিশু রয়েছে সেসব গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এমন উদাহরণ রয়েছে।

সম্প্রতি পত্রিকাগুলোতে ছবিটি প্রকাশ করে প্রকাশ করা হয়েছে, কয়েকটি জায়গায় স্বেচচেশ্রামের বাম পাশের পুল তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি অসাধারণ কাজ। দেশের মানুষ এ থেকে মূল্যবান শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এই ধরনের কাজ ইতিমধ্যে: আগে খুব একটা না, সাধারণত না। ভালভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, বাংলাদেশ থেকে দূর অতীতের কাল থেকে শুরু করে এ ধরনের বহু পুল, সাঁকো এলাকার লোকের স্বেচ্ছাশ্রমে বা নিজেদের অর্থ জোগান নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুনত্ব কিছু না। হ-চৈ করতেও কিছু না। এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা অতিরিক্ত প্রচার করা এটি খুব আকর্ষণীয় করা হবে।

বাড়িয়ে কথা বলার সময় সাম্যিক চিত্তে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। প্রকল্প বা কর্মসূচী জন্য ক্ষণিকের জন্য চিত্তাকর্ষক করা যায়। কিন্তু এটা স্থিতাবস্থা পায়না। অল্প সময়ের মধ্যে এর আকর্ষণ উবে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :