দুর্বৃত্ত ঢুকেছে ডাক্তারি পেশায় : হাইকোর্ট
জিএস ডেস্ক:>>>
ডাক্তারদের আচরণে রোগী ও আত্মীয়স্বজনদের বিরক্তির সাথে বারবার গণমাধ্যম প্রতিবেদন এসেছিল। এখন নিজেই সর্বোচ্চ আদালত চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছে এ বিষয়ে
হাইকোর্ট এ মন্তব্য করেছেন যে, ডাক্তারী পেশাজীবী দুর্নীতির ঢাকার পেশাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঙ্গে তাদের নিজেদের ভুল ঢাকতে ধর্মঘট মত কর্মসূচী আরও অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন আদালত থেকে
চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া তিন চিকিৎসক এবং ‘ভৌতবাজি’ প্রমাণ পাওয়া গেলে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া চট্টগ্রামে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণটি দিয়েছেন। ভুল চিকিৎসার সাথে অন্য একটি রিট শুনানির জন্য আদালতে এ মন্তব্য করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের ধর্মঘট ডাকার সমালোচনা করে দুই বিচারক বলেন, ‘মেডিক্যাল পেশা একটি মহান পেশা আছে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তির কারণে ডাক্তারী পেশা দুর্নীতির প্রবেশ নিজেদের ভুল ঢাকতে ধর্মঘট ডাকা আরও অন্যায় ডাক্তারদের অবহেলা হলে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। ‘
সম্প্রতি চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ডাক্তারের অবহেলা। রোগীর আত্মকেন্দ্রে পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন তদন্ত কমিটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, ওই তিন চিকিৎসককে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন দেয়ার দিন রবিবার ম্যাক্স হাসপাতালসহ পাঁচটি বেসরকারী হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। গ্রহণ করা হয় বিভিন্ন ব্যবস্থা
এর প্রতিক্রিয়া সমগ্র জেলায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ করা হয় বেসরকারী হাসপাতাল এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে। একদিন রোগীদের ভুগিয়ে সোমবার অবশ্য এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আগে আগে বিভিন্ন সময় ভুল চিকিৎসার মামলা দেরিতে পুলিশও সরকারী হাসপাতাল ছেড়ে বেসরকারী হাসপাতালে কাজ করার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল ডাক্তারকে এভাবে স্ট্রাইঘট করা হয়েছে।
অনানুষ্ঠানিক দাবি আদায়ে উপজেলা, জেলা এমনকি পুরো দেশ চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় এমন ঘটনা বিরল নয়।
রোগীদেরকে জিম্মী করে ডাক্তারদের অনৈতিক দাবি আদায়ের প্রবণতা নিয়ে সমালোচনামূলক মুখর দেশবাসী ফেসবুকে প্রমাণ মিললে দেশবাসী কতটা তিক্ত, বিরক্ত
এর মধ্যে হাইকোর্ট বলছে, ‘কী ঘটছে তা দেখতে কি ঘটছে? মানুষ বিপদে পরলে তিনজন কাছে যায়, পুলিশ, আইনজীবী এবং ডাক্তার। কিন্তু পেশা যদি দুর্বৃত্তদের কাছে ধ্বংস হয় তবে মানুষ বিপদে পড়ে। ‘
শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে বিচারকরা বলেন, ‘মেয়েটাকে ফেরত আনা যাবে না আমাদের ভুল হলে উচ্চ আদালত আছে। ভুল করে অন্যায় না কিন্তু ভুলের কারণে ধর্মঘট ডাকা অন্যায়। ধনীরা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন। কিন্তু গরিবরা কোথায় যাবে? ‘
আদালতে শুনানির জন্য রিটকারী আইনজীবী আমিত দাশ গুপ্ত সহিত সুভাষ চন্দ্র দাস চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে এ এম আমিনুল ইসলাম
গত মার্চ মাসে ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের আয়োজিত চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তী জটিলতায় চোখ হারান ২০ জন পুরুষ-পুরুষ। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পরে একটি দৈনিকের প্রতিবেদন যুক্ত করা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা গত 1 এপ্রিল রিট করা আইনজীবী আমিত দাশগুপ্ত
এই রিপোর্টে বলা হয়, ‘ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন পুরুষ-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন তাদের মধ্যে চারজন রোগী তাদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত আত্মীয়দের সঙ্গে ঢাকা আসেন। পরে ইমপ্যাক্ট পক্ষ থেকে ১২ মার্চ একসাথে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ‘
‘৫ মার্চের এই অপারেশনের কারণে তাদের চোখ এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে, ১৯ জন এক চোখ খোলার জন্য।’
হাইকোর্টের রায়ের শুনানি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিটিআরসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গার ডিসি ও এসপি, ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীনসহ ১০ জনের বিবাদীকে এ রুলের জবাব দেওয়া হয়।
আদালত অন্য এক রুলে মামলা ইমপ্যাক্ট হাসপাতাল এবং ডাক্তারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তাও জানতে চাই



