ফেনীতে পরিবেশ আইন না মেনেই চলছে ৬৮ টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৯ পিএম, ০৭ মার্চ ২০১৯

ফেনীর রিপোর্টার:>>>

ফেনীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন না মেনে চলছে ৬৮টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৩৫টি প্রাইভেট হাসপাতালের মধ্যে ৩২টি আর ৪৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৩৬টির ছাড়পত্র নেই।

প্রতিষ্ঠান চালু করতে পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও এর কোনো বালাই নেই এসব প্রতিষ্ঠানে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে জরিমানা করলেও বিধি না মেনে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ অনুযায়ী যেকোনো বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধিত হওয়ার আগেই পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়াটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, জেলায় মাত্র ৩টি হাসপাতাল ও ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। জেলা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশনের তালিকা অনুযায়ী ৮৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৩৫টি হাসপাতাল। এ দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে- ফেনী কনসেপ্ট হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল, দাগনভূঞা ইউনিক হাসপাতালের।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ভাইটাল রিচার্স, ফেনী ক্লিনিক, ইবনে সিনা, প্যাসিফিক, ডক্টরস পয়েন্ট, সেভরন ক্লিনিক, কমপেক্ট হেলথ কেয়ার, ডক্টরস ক্লিনিক, আল্ট্রাপ্যাথ, ছাগলনাইয়ায় নিউ মর্ডান ডিজিটাল ল্যাব, দাগনভূঞা পদ্মা ডিজিটাল ল্যাব, সোনাগাজী ক্লিনিকসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র রয়েছে। তবে ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়াধীন আবেদন রয়েছে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে রক্ত, পুঁজ, সংক্রমিত স্যালাইন সেট, ডায়েরিয়া সংক্রামিত রোগীর কাপড়চোপড়, সংক্রমিত সিরিঞ্জ ইত্যাদি বর্জ্য হয়। এছাড়া আছে অ্যানাটমিক্যাল বর্জ্য যেমন, মানবদেহের কেটে ফেলা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, টিস্যু, গর্ভফুল ইত্যাদি। তেজস্ক্রিয় বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ, অব্যবহৃত এক্স-রে মেশিন হেড ইত্যাদি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এগুলো যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনী জেলা কার্যালয়ের পরির্দশক ফাইজুল কবির জানান, ছাড়পত্র পেতে প্রায় ৪২টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা রয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নানা ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না।

ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল গোফরান বাচ্চু জানান, ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলো একটি এনজিও সংস্থা সকল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ছাড়পত্র খতিয়ে দেখার জন্য সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল রয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নতুন করে নিবন্ধন পেতে অনলাইনে আবেদনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৩১ জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :