ফেনীতে স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাকে ও ৫ বছরের মেয়েকে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৩৭ পিএম, ২৪ মে ২০১৭

শাখাওয়াত হোসেন, ফুলগাজী, ফেনী:>>>>

ফেনীর ফুলগাজী থেকে তোশক দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, মাকে কুপিয়ে ও মেয়েকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর লাশ তোশকে পেঁচিয়ে খাটে ফেলে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। বুধবার রাত সাড়ে আটটায় উপজেলার জিএমহাট ইউনিয়নের পূর্ব বসিকপুর গ্রাম থেকে লাশ দুটো উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত দুজন হলো বিবি ফাতেমা (২৬) ও ইসমা (৬)। বেশ কয়েক বছর ধরে ফাতেমা পূর্ব বসিকপুর গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে মেয়েকে নিয়েকে থাকতেন। কয়েক মাস আগে স্বামীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

 

পুলিশ সূত্র জানায়, পূর্ব বসিকপুর গ্রামের বকসীশাহ মাদ্রাসার পাশে ফাতেমার বাবার বাড়ি। তাঁর বাবাও বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বাড়িতে মা হোসনে আরা বেগমসহ তাঁরা তিনজন থাকতেন। তিন দিন আগে তাঁর মা বেড়াতে যান। বাড়িতে শুধু ফাতেমা ও তাঁর মেয়ে ছিলেন।

 

ফুলগাজী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর বলেন, মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মা ও মেয়ের লাশ দেখে তাঁরা ধারণা করছেন, কেউ ঘরে ঢুকে মাকে কুপিয়ে ও মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

 

জিএমহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মজিবুল হক বলেন, বিকেল থেকে ফাতেমাদের ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। সন্ধ্যার পর তাঁদের এক আত্মীয় এসে দরজার বাইরে থেকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন তিনি। তাঁরা দেখেন দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে লোকজনসহ ঘরে ঢুকে তাঁরা খাটের ওপর একটি তোশক প্যাঁচানো অবস্থায় দেখেতে পান। তোশকের এক পাশ দিয়ে ফাতেমার পা দুটো বাইরে বেরিয়ে ছিল। পরে তোশকের মধ্যে তাঁর মেয়েকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ গ্রামের শাহাদাত হোসেন ওরফে রিমনের সঙ্গে ৭-৮ বছর আগে ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকসহ নানা কারণে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে যৌতুকের মামলাও হয়। প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্বামীর সঙ্গে ফাতেমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। অন্য এক মামলায় শাহাদাত বেশ কিছু দিন কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

 

এলাকাবাসীর সন্দেহ, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্বামী জড়িত থাকতে পারেন। এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বা তাঁর পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মোর্শেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন :