ফুলগাজীর মা-মেয়ে হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন আটক
শাখাওয়াত হোসেন, ফুলগাজী, ফেনী:>>>>
ফুলগাজীর জিএমহাটে মা-মেয়ে হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফারুক ভূঞা(৩৮) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে জিএমহাট ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হকের নেতৃত্বে স্থানীয়রা পূর্ব বশিকপুর গ্রামের শাহজাহান হুজুরের বাড়ী থেকে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।আটক ফারুক ওই গ্রামের শফিকুর রহমান প্রকাশ গুন্ডু মিয়ার ছেলে।
জিএমহাট ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক জানান মা-মেয়ে হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফারুক ভূঞাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া নিহত সাথীর মা হোসনে আরা হত্যায় ব্যবহৃত লাঠি এবং গামছা উদ্ধার করেছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে জিএমহাটে মা-মেয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় আটক উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পূর্ব বশিকপুর গ্রামের শাহজাহান ভূঞার ছেলে সাইদুল ইসলাম রনি(৩২) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন পাটোয়ারীর ছেলে জোবায়ের হোসেন পাটোয়ারি (২৭) কে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি)এম এম মোর্শেদ জানান মা-মেয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় আটক রনি ও জোবায়েরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফারুক ভূঞাকে আটকের বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এর আগে গত বুধবার ফুলগাজীর জিএমহাটে বিবি ফাতেমা সাথী (২৬) নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাকে কুপিয়ে ও তার ৫ বছরের মেয়ে ইশমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। ওইদিন সন্ধ্যায় উপজেলার জিএমহাট ইউনিয়নের পূর্ব বশিকপুর গ্রামের পাসপোর্ট মনিরের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। সাথী ওই বাড়ীর মনির আহাম্মদ প্রকাশ পাসপোর্ট মনিরের মেয়ে। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ ২টি কে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)এম এম মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
এদিকে নিহতের পরিবার হত্যাকান্ডের জন্য সাথী পূর্বের স্বামী শাহাদাত হোসেন রিমন(৩৫) কে দায়ী করেছেন। তাঁরা জানান রিমনের নির্দেশে সাথী ও ইসমাকে হত্যা করা হয়েছে। রিমন ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ ইউনিয়নের রাণীরহাট ভূঞা বাড়ীর আব্দুল লতিফ প্রকাশ রঙ্গিন কোম্পানীর ছেলে। ২ মাস পূর্বে সাথী ও রিমনের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। রিমন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী বলে জানা গেছে।তার বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন থানায় ১০টির অধিক মামলা রয়েছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় ও পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।



