ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফেনীতে চার লেনের করুণ দশা!
শাহজালাল রতন, ফেনী থেকেঃ>>>>
ঢাকা থেকে ফেনীর দূরত্ব ১৭৯ আর চট্টগ্রাম থেকে ৯৩ কিলোমিটার। ঢাকা বা চট্টগ্রামমুখী যানবাহন দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ফেনীতে এসে পেঁৗছার পরই থামতে বাধ্য হয়। মহাযানজটে গাড়ির চাকা আর ঘোরে না। রাতের অবস্থা আরও খারাপ, চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফেনীতে হয়ে যায় এক লেন। কোনো কোনো স্থানে তা আবার গলির মতো! গাড়ির দীর্ঘ লাইন মাঝে মাঝে কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। ফেনী পার হতেই লাগে যায় কয়েক ঘণ্টা। যাত্রীদের অভিযোগ, ছয় লেন ওভারব্রিজ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও মালপত্র রাস্তার ওপর রেখে ব্যবহার, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো এবং বিশৃঙ্খলভাবে যানবাহন রাখার কারণে প্রায়ই দুই থেকে তিন লেন বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল অংশে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিন এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। রাত ৯টায় দেখা যায়, ঢাকামুখী বাস-ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। একমুখী গাড়িও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। চট্টগ্রামগামী যানবাহন গেল কই- সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন একজন চালক। তিনি জানান, রাতে চট্টগ্রামমুখী যানবাহন ফেনী শহরের ওপর দিয়ে চলাচল করে। তা না হলে মহিপালে যানজটের লাইন আরও দীর্ঘ হয়। মহিপাল বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ফেনী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন বাবলুর সঙ্গে। তিনি জানান, রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। এ রুটে রাতে ট্রাক বেশি চলাচল করে। দিনের বেলায় ঢাকা শহরে ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাতের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাককে ঢাকায় পেঁৗছতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পরিবহনের দূরপাল্লার বাস চট্টগ্রাম থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যায়। জেলা পুলিশ জানায়, রাতে যানবাহনের চাপ কমাতে চট্টগ্রামমুখী যানবাহনকে ফতেহপুর এলাকা দিয়ে পুরান ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড ধরে ফেনী শহরের ওপর দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফেনী শহর অতিক্রম করে ওইসব যানবাহন লালপুল এলাকায় গিয়ে পুনরায় মহাসড়কে ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মহিপালে অ্যাপ্রোচ রোড খুব সরু করা হয়েছে। এর ওপরই আবার বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। যাত্রী ওঠা-নামার জন্য সবসময় ১০ থেকে ১২টি বাস রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এ ছাড়া রাস্তার ওপর বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টার রয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাস্তার দু’পাশে স্ট্যান্ড করার মতো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বাসস্ট্যান্ড সরানো হয় না। স্ট্যান্ড সরানো হলেই যানজট অনেকাংশে কমবে বলে মনে করেন তারা। বাস মালিক সমিতি সূত্র জানায়, মহিপালে ওভারব্রিজ অ্যাপ্রোচ সড়কের দু’পাশে সড়ক বিভাগের আরও অন্তত দশ ফুট জায়গা খালি পড়ে রয়েছে। অজ্ঞাত কারণে ওই জায়গাকে বাইরে রেখে স্থায়ীভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্ত করার পথও বন্ধ। ফতেহপুর রেল ক্রসিংয়ের কারণেও এই রুটে চলাচলকারীরা ভোগান্তির শিকার হন। ২০১২ সালে রেলওয়ে ওভারব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ অবস্থায় রাস্তার এক পাশ দিয়ে অল্প প্রশস্তের একটি অ্যাপ্রোজ সড়ক নির্মাণ করে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘদিনেও ব্রিজের নির্মাণ কাজ ৩০ শতাংশও হয়নি। ফলে অ্যাপ্রোচ সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট হয়। সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ ও মান ঠিক না রাখায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটকে কাজের দায়িত্ব দেওয়ার পর পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। ফেনী সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জানান, চার লেন প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। এখানে যত্রতত্রভাবে ইউটার্ন নির্মাণের কারণেই সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় যান চালকরা মহাসড়কের কাচ্ছুটি, মোহাম্মদ আলী বাজার, রামপুর, লালপুল, ফাজিলপুর, মহিপাল ও ফতেহপুরে আইল্যান্ড ভেঙে ইউটার্ন তৈরি করেছে। ইউটার্নের কারণে গাড়ি কম গতিতে চলাচল করছে, দুর্ঘটনাও বাড়ছে। তিনি জানান, ডিসেম্বরে ছয় লেন ওভারব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এরপর যানজট কমে আসবে। জেলা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, বর্তমান অবস্থায় যানজট নিরসন কঠিন। চার লেনের সড়কে অনেক সময় এক লেন চালু রাখা যায় না। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফেনীর মোহাম্মদ আলী বাজার থেকে লালপুল পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারে দুই শতাধিক পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকে।



