রেল স্টেশনে সাদামাটা প্রতিমন্ত্রী!
ঢাকা অফিস:>>>
খুব সাদামাটা। হাঁটছেন স্টেশনে। সামনে পেছনে পুলিশ নেই। তাকে ঘিরে ভিড় নেই। কারণ তার পাশ দিয়ে অবলীলায় হেটে যাচ্ছেন আরও অনেকে। কেউ টেরই পাচ্ছেন না তিনি সংসদ সদস্য এবং সরকারের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
দৃশ্যটি শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির ভিড়ভাট্টা থেকে মন্ত্রীর স্রেফ সাধারণ হেঁটে বেড়ানোর চিত্র দেখা গেলো।
স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষ থেকে কয়েকজন সংবাদকর্মী বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তাদের দেখে মন্ত্রী আগে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। বললেন, নাটোরে যাচ্ছেন। বন্যা বেশি ওইদিকে।
তার হেঁটে বেড়ানোর খবর রেলস্টেশনে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরাও জানতেন না। যাদের অবস্থা ত্রাহি হয়ে যেত এখানে কোনো মন্ত্রী-এমপির আগমন ঘটলে।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রকিব হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে দায়িত্বরত এই স্টেশনে। তিনিও জানেন না তার পাশে হেঁটে গেলেন মন্ত্রী।
আরেকজনের কাছে খবর পেয়ে ছুটলেন ভিআইপি কক্ষের দিকে।
তবে রেলওয়ে নিরাপত্তা রক্ষী দু’তিনজন প্রতিমন্ত্রীকে দেখে চিনে ফেলায় পেছনে সঙ্গে ছিলেন। তবে কে তার সঙ্গে আছে বা নাই সেদিকে খেয়াল নেই প্রতিমন্ত্রীর।
আরও ছিলেন স্টেশন ম্যানেজার শীতাংশু চক্রবর্তী। যিনি মন্ত্রী এমপি ভিআইপিদের প্রটোকল দিতে গিয়ে হয়রান! এসব নিয়ে তাকে দৌড়ের পর থাকতে হয়।
এবেলায় দৌড় নেই। তিনিও স্বাভাবিক ব্যস্ততায়।
ম্যানেজার বললেন, প্রতিমন্ত্রী স্বাভাবিকভাবেই হেঁটেছেন তাকে তুলে দিয়েছি। তবে কোনো ভিআইপি আসার খবর আগে থেকে জানা থাকে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা থাকে। এটাই রীতি।
প্রতিমন্ত্রী পলক সকাল ১০টার একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোর যাচ্ছেন। সঙ্গে তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকা আর তিন ছেলে অপূর্ব, অর্জন ও অনির্বান।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একজন আইনজীবীও। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার সিংড়া থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। পরে ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।



