আ.লীগের দুই নেতার দ্বন্দ্বের জেরে কিশোরীকে নির্যাতন

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৫ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার:>>>

আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই নেতার দ্বন্দ্বের জের ধরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং পরে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ওই কিশোরী এখন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

 

এ ব্যাপারে ১৭ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন কিশোরীর বাবা। গত শনিবার রাতে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক নূরুল ইসলামের সঙ্গে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বল্লভদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দেলোয়ার কাজীর বিরোধ চলে আসছিল।

 

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরেই নূরুল ইসলামের এক সমর্থকের কিশোরী মেয়েকে গত ১৫ মে রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন দেলোয়ার কাজীর সমর্থক দিপু মোল্লা (৩০)। তাঁকে সাহায্য করেন বশার মোল্লা (২৮), মিন্টু মোল্লা (৩৫), জাহিদ মোল্লা (২৮), রাজ্জাক মাতুব্বর (৩৫) ও মঈনুদ্দিন ফকির (৪০)।

 

ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরী গত ১৬ মে দিপুসহ ওই ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিন্টু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। দিপুসহ বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।

 

কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর আসামিরা তা প্রত্যাহারের জন্য তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। মামলা প্রত্যাহার না করায় গত শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে দিপুসহ মামলার তিন আসামি এবং তাঁদের আরও ১০-১২ জন সহযোগী বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিশোরীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

 

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কিশোরীর ছোট বোন বলে, ‘হামলাকারীরা ঘরের দরজা ভেঙে ও টিনের বেড়া কেটে ঘরের ভেতরে ঢোকে। আমি ও আমার বড় বোন এক চকিতে শুয়ে ছিলাম। মা ছোট ভাইকে নিয়ে বারান্দায় শুয়েছিলেন। ঘরের আরেক চকিতে আমার দুই ভাইবোন শোয়া ছিল। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আমাকে চৌকি থেকে লাথি মেরে নিচে ফেলে দেয়। এরপর আমার বোনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। মাকে রামদা দিয়ে পাহারা দেয়।’

 

এ নিয়ে গতকাল প্রথম আলোয় ‘ফরিদপুরের সালথা: ধর্ষণের ৪ মাস পর কুপিয়ে জখম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফায়েকুজ্জামান শেখ বলেন, এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গত রোববার রাতে দিপুসহ ১৭ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় দিপুসহ আগের ধর্ষণ মামলার তিনজন আসামি রয়েছেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত ১৫ নম্বর আসামি মিলন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

গতকাল বেলা দেড়টার দিকে ফুলবাড়িয়া গ্রামে দিপুর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে এবং তাঁর বাবা-মা ও স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কথা হয় দিপুর ভাবি হাসনা বেগমের সঙ্গে। হাসনা বেগম দাবি করেন, ‘দিপু ওই কিশোরীকে ধর্ষণ বা কুপিয়ে জখম করেনি। বল্লভদী ইউপির চেয়ারম্যান তাঁর লোকজন নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছেন এবং তিনিই গত শনিবার রাতে তাঁর লোকজন নিয়ে ওই কিশোরীকে কুপিয়ে জখম করেছেন। আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধ পক্ষ বলে দিপুর নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।’

 

বল্লভদী ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা নূরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোতে খুব ভালো ছিল। আট মাস আগে তিনি একটি পক্ষ ত্যাগ করায় তাঁকে ও তাঁর সমর্থকদের দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ মে কিশোরীকে ধর্ষণ এবং গত শনিবার রাতে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটছে।

 

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার কাজী বলেন, ‘আমি একটা ধর্ষণ মামলায় পড়েছি, আমি তো নিজেই বাঁচি না। আমি কেন তাকে হত্যার চেষ্টা করব?’ ধর্ষণের ঘটনটি সাজানো বলে দাবি করেন তিনি।

 

ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। রাজনৈতিক প্রভাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর এর তদন্তভার সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফায়েকুজ্জামান শেখের ওপর ন্যস্ত করেছি।

 

আপনার মতামত লিখুন :