ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:০০ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৭

ফেনী সদর প্রতিনিধিঃ>>>

ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির বড় মসজিদ রোড় শাখার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহর ব্যাবসায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের কারনে ব্যাবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের চাঞ্চল্য ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিশ্বস্থ সুত্রে খবর পাওয়া গেছে।

 

সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন পূর্বে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতি বড় মসজিদ রোড শাখার ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে সদস্য করার নাম করে ২৫০ টাকা হতে ৩৫০ টাকা নেয়া হয়েছে আবার কারো কারো কাছ থেকে ৫০০ টাকা হারে সদস্য ফি আদায় করা হয়েছে। এভাবে ১৩৫ জন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সদস্য ফি আদায় করে কিন্তু বিনা নোটিশে ৭৬ জনকে তালিকা থেকে বাতিল করা হয়।

 

তালিকা থেকে বাদ পড়া এক ব্যবসায়ী জানান, সদস্য হওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে ২৫০ টাকা সদস্য ফি নেয়া হয়েছে। ফি নেওয়ার সময় বলেছে শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে চলবে। তাৎক্ষনিক আমি জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, ২কপি ছবি এবং নগদ টাকা প্রদান করি। আমাকে রশিদও দেয়া হয়েছে। কিন্তু তালিকায় আমার নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি। ট্রেড লাইসেন্সের জন্য কোন নোটিশও দেয়া হয়নি। আমি ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি নিয়ে গেলে আমাকে বলে সময় চলে গেছে। আমার প্রশ্ন আমার কাছ থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিলো কিন্তু কেন তালিকায় আমার নাম অর্ন্তভূক্ত হয়নি তা আমার বোধগম্য নয়। আমি এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যাবসয়ী বলেন আমার কাছ থেকেও সদস্য ফি, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেয়া হয়েছে। আমাকে মানি রশিদও দেয়া হয়েছে। কিন্তু তালিকায় আমার নাম নেই।

 

বড় মসজিদ রোড শাখার বর্তমান কমিটির ক্যাশিয়ার মোঃ নাছিম উদ্দিন জানান, ফেনী শহর ব্যাবসায়ী সমিতির নির্বাচন সিলেকশন করার লক্ষ্যে এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন শহর ব্যাবসায়ী সমিতি। আমার জানা মতে বড় মসজিদ রোড়ে দীর্ঘদিনের ব্যাবসয়ীরাও এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অথচ যারা এ এলাকায় ব্যবসায় করে না, ঠিকানা বিহীন প্রতিষ্ঠান ও যাদের নামে কোন ট্রেড লাইসেন্স নাই এমন ব্যাক্তিদেরকে সমিতির সদস্যপদে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু পূর্বে যারা সমিতির অন্তভূক্ত ছিল আইডি কার্ডধারী সদস্য নং ৪১, ১৭, ৩৭ সহ অসংখ্য কার্ড হোল্ডার যাদের মেয়াদ আগামী ২০১৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ আছে এমন অনেককে সমিতির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। যারা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও প্রার্থী হতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। এ সমস্ত অনিয়মের কারনে এখানকার ব্যবসয়ীরা দ্রুত আন্দোলনে নামার প্রস্তাব দিচ্ছে।

 

ব্যাবসায়ী সমিতিরি নির্বাচনে নমিনেশন গ্রহণ কারী এক প্রতিধন্ধি জানান নোমিনেশন ফরম দাখিল না করতে আমাকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাহলে এধরনের নির্বাচনে কতটুকু গ্রহণ যোগ্যতা পাবে তাতে ব্যাবসয়ীরা শংকিত।

 

বড় মসজিদ রোড শাখার আরেক ব্যাবসায়ী জানান, আমি আমার নাম তালিকাভূক্তি যাচাই করতে গেলে দেখতে পাই তালিকায় নাম আছে কিন্তু সমিতির দেয়া আইডি কার্ডের ক্রমিক নম্বরের সাথে সমিতির তালিকার ক্রমিক নম্বরের সাথে কোন মিল নাই। এটা দেখে মনে হয় সমিতির সদস্যপদে এলামেলো রয়েছে।

 

এসব অনিয়মের বিষয়টি জানতে শহর ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারীর সাথে মুঠো ফোনে যােগাযোগ করলে তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, আমরা ব্যবসায়ীরা ভাই ভাই। আমরা সকলে ব্যাবসায়ী এখানে দলমতের বিষয় কাজ করে না। আমাদের সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স বিহিন কাউকে সমিতিতে সদস্য পদ দেয়ার কোন নিয়ম নাই। আর যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সদস্য ফি নেয়া হয়েছে তাদেরকে প্রাথমিক তালিকায় নাম রাখা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য সময় দেয়া হয়েছে। চুড়ান্ত তালিকা ছাড়া ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। তাদের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স কপি হাতে পেলে চুড়ান্ত তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হবে। আইডি কার্ডধারীদের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়ে বলেন এ ধরনের বক্তব্য তথ্য নির্ভর না। কোন ব্যবসায়ীকে বাদ দেয়ার সুযোগ নাই। অনিয়ম তান্ত্রিক কোন ব্যাক্তিকে সদস্য কারার নিয়ম, অধিকার ও সুযোগ কোনটিই আমাদের নাই।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করে শহর ব্যবসায়ী সমিতিরি এসব অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতা খাতিয়ে দেখে ব্যবসায়ীদের চলমান সংকট সমাধানে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :