সংবাদ প্রকাশের পর ইভটিজিং প্রতিরোধে সোনাগাজী মডেল থানার পদক্ষেপ

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১২ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০১৭

সোনাগাজী প্রতিনিধিঃ>>>

“সোনাগাজীর সোনাপুরে বখাটেদের দৌরাত্ম্য, অনেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ !” এই শিরোনামে অনলাইন নিউজ সেনাগাজী নিউজ ২৪-এ সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর হলে সোনাগাজীর সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনা মুলক ক্লাস করে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ।

 

গতকাল(শনিবার) বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে ছাত্রীদেরকে ইভটিজিং প্রতিরোধে এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করেন, সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: হারুনুর রশিদ ও এএসআই জাহাঙ্গীর আলম।

 

এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো.হুমায়ুন কবির জানায়, সোনাপুরে অন্যান্য যে কোন এলাকার চেয়ে বখাটেদের সংখ্যা একটু বেশী, এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, এখন থেকে ওই বিদ্যালয়ের সামনে সাদা পোষাকে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা চলবে। বখাটেদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

 

ফেনী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গির সরকার বলেন, ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাজের প্রত্যেকটা মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। এছাড়াও পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। সমাজের সবাই এগিয়ে আসলে ইভটিজিং প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

ইভ টিজিং এর মূল বিষয় হলো নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। নারীকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে হবে, তাহলেই কেবল এই ধরনের অপরাধ দূর করা সম্ভব।

 

ইভটিজিং প্রতিরোধে পরিবার এবং সমাজের কি ধরনের দায়ীত্ব রয়েছে –

পারিবারিক দায়িত্ব :

১) পারিবারিকভাবে শিশুকাল থেকে নারী-পুরুষ সম্পর্ক পরিষ্কারভাবে ছেলে-মেয়েদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

২) পরিবারে নারী সদস্যদের প্রতি পুরুষ সদস্যদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে, অশ্লীল কথা না বলা, গালি-গালাজ না করা উচিত।

৩) টিজ করা সমাজ ও আইনের চোখে খারাপ কাজ। এ বিষয়ে সন্তানদের বিশেষ করে ছেলে সদস্যদের অবগত করানো এবং মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা।

৪) পরিবারের সকল সদস্য বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের বই পড়া, কবিতা পড়া, খেলাধূলার সাথে সম্পৃক্ত করা, ছবি আঁকা ইতাদি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত করার পরিবেশ তৈরি করা।

 

সামাজিক কর্তব্য :

১) ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

২) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ক্লাসরুমে ইভটিজিং সম্পর্কে আলোচনা করা এবং নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরা।

৩) গণমাধ্যমে ইভটিজিং উৎসাহিত হয় এ ধরনের বক্তব্য, বিজ্ঞাপন কঠোরভাবে প্রচার না করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৪) সামাজিকভাবে কোথায় কোন ঘটনা ঘটলে ভিকটিমের পাশে সকল সামাজিক- সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়ানো এবং মানসিক ও অন্যান্য সাহস জোগানো।

৫) আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেতন ও কার্যকর করা।

৬) সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৭) স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইভটিজিং প্রতিরোধে কমিটি গঠন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।

আপনার মতামত লিখুন :