একদিনেই বদলে গেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চিত্র

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০০ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮

জিএস নিউজ ডেস্ক:>>>

একদিনেই বদলে গেছে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চিত্র। দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারও নেতা-কর্মীরা আসতেন ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এ রাজনৈতিক দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এখানে কেউ আসতেন দলের সাংগঠনিক কাজে। আবার কেউ আসতেন নানা তদবিরে। আর তাদের পদচারণায় মুখর থাকতো কার্যালয়টি। জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর বদলে গেছে সেই চিত্র। বড় নেতা তো দূরের কথা, কোনো ছোটো-খাটো নেতা-কর্মীর দেখা মিলে নাই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টিতে সোমবার।

 

কার্যালয়ের পুরনো স্টাফ আবদুল জলিল জানান, সোমবার সারাদিনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র কোনো নেতা আসেননি। তবে দুপুরে কার্যালয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকা দূতাবাসের কর্মকর্তা জ্যাকব। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক করেন তিনি। তবে কিছু সময়ের জন্য এসেছিলেন দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দলের কার্যালয়টি ছিল নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখর। এবার বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়নের সকল প্রক্রিয়া গুলশানে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তারপরও দলটির বড়ো-ছোটো নানা স্তরের নেতা-কর্মীরা আসতেন নয়া পল্টনের এই কার্যালয়ে।

 

কার্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে এক প্রকার ‘স্বেচ্ছা বন্দি-জীবনযাপন’ করেছেন প্রভাবশালী দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রায় প্রতিদিন সকাল-দুপুর-রাতে নানা বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করতেন। তাকে ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি চক্রও গড়ে উঠেছে। দলের প্রটোকল অনুযায়ী তারা তেমন স্তরের নেতা না হলেও অনেক সিনিয়র নেতাদের চেয়ে দাপুট বেশি বলে বিএনপিতে গুঞ্জণ রয়েছে।

 

জানা গেছে, রিজভীর ব্রিফিংয়ের সময় অনেক সিনিয়র নেতা উপযুক্ত বসার আসন না পেলেও ওই চক্রের অনেকেই টেলিভিশন ক্যামেরায় নিজেদের চেহারা দেখানো জন্য প্রতিযোগিতা করে রিজভীর দু’পাশ দখল করে বসে থাকেন। এ নিয়ে একাধিকবার সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নানা সময় অভব্য ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা কোনো সাংগঠনিক কাজে এখানে আসলে তাদের সঙ্গেও বাজে ব্যবহার করে থাকে বলেও চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

 

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকালও কার্যালয়টি নেতা-কর্মীদের পদচারণা মুখর। নির্বাচনে আগে নানা বিষয়ে বিফ্রিং করতেন রিজভী আহমেদ। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনই সেই চেহারা পাল্টে গেছে। আগের মতো নেতা-কর্মীদের ঢল নেই। এক দম সুনশান নীরবতা। যেখানে এক রকম নিয়ম হয়ে গিয়েছিলো রিজভী আহমেদের বিফ্রিং। সোমবার কোনো বিফ্রিং বা সংবাদ সম্মেলন করেনন দলের এই প্রভাবশালী নেতা। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি একটি অন্যতম ‘বিরল’ ঘটনা বলে মন্তব্য করছেন কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা সংবাদকর্মীরাও।

 

অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, আমাদের মতো সাধারণ নেতা-কর্মীদেরও মন খারাপ, তাতো বুঝতেই পারছেন। তাই আজকে দলীয় কার্যালয়ে অন্যান্য দিনের মতো বলতে গেলে কোনো নেতা-কর্মীদের চোখে পড়ার মতো ছিলই না। তবে তিনি জানান, কিছু সময়ের জন্য পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন। তার মন ভাল নেই, সে কারণে সময় কাটাতে সেখানে গিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল হকের সাথে তার দেখা হয়েছে।প্রায় একই সময় আমেরিকান দূতাবাসের কর্মকর্তা জ্যাকব কার্যালয়ে এসেছিলেন। কিন্তু নামাজের সময় হওয়ায় সেখান থেকে চলে আসেন সালাম আজাদ। তিনি জানান, জ্যাকবের সঙ্গে রিজভী আহমেদ একাই কথা বলেছেন। সেখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান উপস্থিতই ছিলেন না।

আপনার মতামত লিখুন :