চর্মরোগ হলে অবহেলা করা উচিত নয়
অনলাইন ডেস্ক>>>
বিভিন্ন কারণে শরীরে দেখা দিতে পারে চর্মরোগ। এ রোগগুলো আবার বিভিন্ন ধরনের। কিছু চর্মরোগ আছে, যেগুলো সাধারণত শরীরের বাইরের পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু চর্মরোগ আছে, যেগুলো শরীরের ভেতরের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। চর্মরোগ থেকে মুক্ত থাকার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সিনিয়র রিপোর্টার দুলাল হোসেন
দুলাল হোসেন : মানবদেহে কোন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়ে থাকে?
অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার : মানবদেহে অনেক ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়ে থাকে। কিছু চর্মরোগ আছে, যেগুলো সাধারণত শরীরের বাইরের পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু চর্মরোগ আছে, যেগুলো শরীরের ভেতরের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এসব চর্মরোগের মধ্যে স্কেবিস, অ্যাকজিমা, সোরিয়াসিস ও নাইকেন্স সিমপ্লেক্স কনিকাস অন্যতম। চর্মরোগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। চর্মরোগের চিকিৎসা গ্রহণে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। তবে কিছু কিছু চর্মরোগ রয়েছে, যেগুলো পরিপূর্ণ চিকিৎসা নেওয়ার পরও ভালো হয় না। কিন্তু চর্মরোগ হওয়ার পর অনেক দিন পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণ করা না হলে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু কিছু চর্মরোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের কারণে লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রোগীর সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শমতো চলা উচিত।
দুলাল হোসেন : স্কেবিস রোগে সাধারণত কারা আক্রান্ত হয়ে থাকে?
অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার : স্কেবিস (খোসপাঁচড়া) একটি অতি চুলকানিজনিত রোগ। এটি হাত, পা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে। প্যারাসাইড জাতীয় জীবাণুর কারণে সাধারণত স্কেবিস রোগ হয়ে থাকে। সব বয়সী মানুষেই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বিশেষ করে শিশু, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং যারা কর্মজীবী, সোশ্যাল কন্টাক্ট যাদের বেশি, তাদের স্কেবিস রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রচ- চুলকানি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরে শরীর থেকে পরিধেয় কাপড় খোলার পরই চুলকানি বেশি হয়। স্কেবিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। স্কেবিসের ওষুধ ব্যবহার না করলে ইনফেকশন ও পুঁজ হয়। পুঁজ ও ইনফেকশন হওয়ার কারণে পরবর্তীকালে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্কেবিস রোগটি কোনো অবস্থায়ই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এ রোগটির চিকিৎসা সঠিক সময়ে নিতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের স্কেবিস দেখা দিলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। স্কেবিসের চিকিৎসা পদ্ধতিও তেমন জটিল নয়। স্কেবিস থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের শ্যাম্পু ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে। বড়দেরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাই স্কেবিস রোগ থেকে মুক্ত থাকার অন্যতম প্রধান উপায়। এ ছাড়া আরও একটি পরিচিত চর্মরোগ আছে, যেটির নাম অ্যাকজিমা। অ্যাকজিমা হলোÑ শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে লাল হয়ে ছোট ছোট দানাদার অবস্থা তৈরি করে পানি বের হয়। অ্যাকজিমা হলে অল্প থেকে বেশি মাত্রায় চুলকানি অনুভূত হয়। অ্যাকিজমার চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ স্টেরয়েড জাতীয় মলম ও মুখের খাওয়ার ওষুধ দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। অ্যাকজিমায় ব্যাকটেরিয়া বেশি হলে অ্যান্টিবায়েটিক ওষুধ সেবন করতে হয়।
দুলাল হোসেন : কোন ধরনের চর্মরোগ ভালো হয় না?
অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার : সোরিয়াসিস চর্মরোগ ভালো হয় না। এটি ভালো হলে আবার দেখা দিতে পারে। সোরিয়াসিস হচ্ছে চর্মে প্রদাহজনিত একটি চর্মরোগ, যেখানে মাছের আঁশের মতো পদার্থ শরীরের সেই অংশ থেকে খসে পড়ে। এটি বিশেষ করে হাঁটু, কনুই, কোমর ও মাথাসহ শরীর এক বা একাধিক স্থানে হতে পারে। এটি এমন একটি চর্মরোগ যে, আক্রান্ত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বংশগত কারণেও এটি হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। এটি মূলত সারা জীবনের রোগ। সোরিয়াসিস একবার ভালো হলেও আবার দেখা দিতে পারে। রোগটিতে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হয়। এটির চিকিৎসায় বিভিন্ন জাতীয় শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে টার জাতীয় শ্যাম্পু (আলকাতরা পিউরিফাই করে শ্যাম্প বানিয়ে), মলম ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সোরিয়াসিস শরীরের ভেতর থেকে সারিয়ে তুলতে এমটিএক্স ওষুধ দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যেতে হয়। এমটিএক্স দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে সঙ্গে ফলিক অ্যাসিড ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়াও অ্যামোরাল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সোরিয়াসিস হলে প্রথমেই দামি ওষুধ প্রয়োগ করা ঠিক নয়। দামি ওষুধ ব্যবহার করলে সোরিয়াসিস ভালো নাও হতে পারে। এমটিএক্স ব্যবহারের আগে আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার ও কিডনির কোনো সমস্যা আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন এমটিএক্স ব্যবহারের ফলে রোগীর লিভার ও কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সতর্ক থাকতে হবে।



