কেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী ?
বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে আজ রোববার রাতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান।
তিনি জানান, কমান্ডো অভিযানে নিহত যুবকটির আনুমানিক বয়স ২৫ থেকে ৩০। তার নাম মাহাদী বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর এক নম্বর প্যারা কমান্ডোর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে আটক করে। পরে তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যা সাতটা ১৭ মিনিট থেকে সাতটা ২৫ মিনিট পর্যন্ত আট মিনিটের অভিযানে বিমান ছিনতাই চেষ্টকারীকে নিবৃত্ত করা হয়।
মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান বলেন, দুঃখজনক একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল, এর অবসান হয়েছে। কমান্ডো বাহিনী আট মিনিটের মধ্যে অভিযানটি সম্পন্ন করে। অভিযানটি এত দ্রুত সময়ের মধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে যে এর নামও দেওয়া যায়নি। ছিনতাইকারীর নাম মাহাদি। বয়স ২৫। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর কাছে একটি পিস্তল ছিল। তাঁর দাবি ছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিজের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চান। তাঁকে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে অভিযানটি সফলভাবে শেষ হয়ে যায়।
এর আগে বিমানবাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটির প্রধান মফিজুর রহমান রাত আটটার দিকে বিমানবন্দরের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ২৫-২৬ বছর বয়সী অস্ত্রধারী একজনকে আটক করা হয়েছে। যাত্রী-ক্রু সবাই সুস্থ আছেন। আটক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি নিজেই কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করেছেন। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ওই অস্ত্রধারীর দাবি-দাওয়া কী ছিল? এ বিষয়ে মফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইল তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আজকের এই ঘটনা মনিটরিং করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ের সময় এয়ার ভাইস মার্শাল মফিজুর রহমান জানান, অভিযানের সময় ছিনতাই চেষ্টাকারীকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। তাকে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


