ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু, ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
সেই ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে শেষবার ব্যালট হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল শিক্ষার্থীরা। মাঝখানে কেটে গেল ২৮ বছর। নির্বাচিত প্রতিনিধির অভাবে নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল প্রতিনিয়ত।
সোমবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে একটানা দুপুর ২টা পর্যন্ত। আর এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো দীর্ঘ ৩ দশকের প্রতীক্ষা।
ডাকসু ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনের মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৬ জন। এর প্রায় অর্ধেকই অনাবাসিক। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা তাদের সুষ্ঠু ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
ডাকসুতে প্যানেল দিয়ে নির্বাচন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলোর জোট, কোটা আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-বিসিএল, ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মুক্তিজোট, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১জন; তাদের সঙ্গে এই নির্বাচনে ১৪ জন লড়বেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং ১৩ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে।
এদিকে একজন ভোটারকে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৩৮টি ভোট দিতে হবে। প্রার্থীদের নাম মনে রাখাও বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ভোটারদের কাছে।
এছাড়া এজিএস পদে ১৩ জন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম-ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন এবং ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮৬ জন নির্বাচন করছেন।
নিয়মানুসারে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব আইডি কার্ড দেখিয়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে যে কোনো সময়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।



